ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

ভিশন ২০৩০ অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়: খালেদ জিয়া

তাজা খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৫৪, ১১ মে ২০১৭   আপডেট: ০০:৫৭, ১১ মে ২০১৭

দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যে ভিশন-২০৩০ উপস্থাপন করা হয়েছে তা অর্জন করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিশন-২০৩০ এর ৩৭টি পয়েন্ট উপস্থাপন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লিখিত বক্তব্যে খালেদ জিয়া বলেন, “আমরা লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশটাকে উন্নত ও মর্যাদাবানে পরিণত করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। আমরা আশা করি, ভিশন বাস্তবায়নে দেশবাসীর সক্রিয় সমর্থনের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোরও সহযোগিতা পাব।”

এর আগে ভিশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, “নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য আনার পাশাপাশি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী নতুন ধারার রাজনীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি।”

বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপোষ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতি ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। মানবাধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগণের জন্য ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে মামলার জট কমিয়ে আনা হবে।”

“পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পুলিশের কনস্টেবল থেকে এএসআই পর্যন্ত নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব দেয়া হবে না। দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না। ঝুঁকিভাতা এবং ৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করলে কর্মঘণ্টা হারে যুক্তিসঙ্গত ওভার টাইম দেয়া হবে। এএসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

“দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, গতিশীল, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক যুগোপযোগী ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে।”

“বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।”

“বিএনপি সব মুক্তিযোদ্ধাদের ‘রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের নামে দুর্নীতির অবসান ঘটানো হবে। বিএনপি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করবে।”

“বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ জাতির জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, আইনের শাসনের অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিস্তারের অন্যতম কারণ। বিএনপি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জাতীয় ঐকমত্য গঠন ও জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা হবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায় বিএনপি। এ সময়ের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫০০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চাই।”


নিউজওয়ান২৪.কম

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত