ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

৭ খুন মামলার ‘আসামি’র সঙ্গে মাখামাখি: ইমেজ সংকটে সাখাওয়াত

জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬   আপডেট: ১৫:১৯, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

খুনের মামলায় বাদীর আইনজীবী ও আসামি ভোটের বাজারে এক কাতারে। ফুলের মালা গলায় মেয়রপ্রর্থী সাখাওয়াত ও লালবৃত্তে কাউন্সিলর প্রার্থী ইকবাল

খুনের মামলায় বাদীর আইনজীবী ও আসামি ভোটের বাজারে এক কাতারে। ফুলের মালা গলায় মেয়রপ্রর্থী সাখাওয়াত ও লালবৃত্তে কাউন্সিলর প্রার্থী ইকবাল

নারায়ণগঞ্জ: বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার এক আসামির সঙ্গিই দেখা গেল ওই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে। শুক্রবার তিনি আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের সঙ্গে ঘুরেছেন ভোটারের দূয়ারে দূয়ারে- দুজনে মিলে চেয়েছেন ভোট। লাটিম প্রতীকে দাঁড়ানো ইকবাল অবশ্য ৭ খুন মামলায় অব্যাহতি প্রাপ্ত আসামি।

কিন্তু ৭ খুনে অব্যাহতি পেলেও ইকবালের বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মাণ্ডের অভিযোগ বিস্তর। জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী ইকবাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। দেশ তোলপাড় করা সাত খুন ঘটনার আগে নূর হোসেনের ( সাত খুন মামলার প্রধান আসামি হোসেন চেয়ারম্যান) মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু মহাল দখলের অন্যতম সহযোগী হিসেবে এলাকায় বদনাম আছে তার। নারায়ণগঞ্জের সংভাদ সূত্রগুলো জানায়, ইকবাল হোসেন প্রার্থী হওয়ার কারণে এলাকার সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত।

এছাড়া ইকবাল যে ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন তাতে ঠেলাগাড়ি প্রতীকে লড়ছেন ৭ খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী বর্তমান কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, ইকবাল আসলে ভোটে নেমেছে হোসেন চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে। নূর হোসেন চায় যে কোনো উপায়ে সাত খুন মামলার বাদী বিউটিকে হারাতে। নূর হোসেনের টাকায় যে কোনো উপায়ে বিউটিকে পরাজিত করতে নেমেছে ইকবাল হোসেন। এসব অভিযযোগের বিষয়ে অবশ্য ইকবালের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াতের পক্ষ থেকেও।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণায় কাউন্সিলর প্রার্থী ‘সন্ত্রাসী’ ইকবালের সঙ্গে মেয়রপ্রার্থী আইনজীবী সাখাওয়াতের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জুড়ে দেখা দিয়েছে চরম সমালোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে সাত খুন নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সাখাওয়াত সেই সাখাওয়াতকে যখন এ মামলার কোনো এক সময়ের আসামিকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করতে দেখা যায়, তখন তার ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

 

নিউজওয়ান২৪.কম-এ আরও পড়ুন এমপি শামীম ওসমান বিষয়টি শেষপর্যন্ত বিস্মৃত না হলেই ভাল!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি কর্মী বলেন- বর্তমানে নিজদলীয় এমপি শামীম ওসমানে সঙ্গে চলমান বিরোধে বেকায়ায় থাকা আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে আসবে এ ঘটনা। কারণ যোগ্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমুর বা কামালকে দাঁড় না করিয়ে বিএনপি অ্যাডভোকেটে সাখাওয়াতকে বেছে নিয়েছিল সাত খুন মামলায় তৈরি হওয়া তার ইমেজকে বিবেচনায় নিয়ে। সেই আলোচিত ‘ন্যায়ের পক্ষের’ আইনজীবী যদি ওই মামলার আসামি, হোক না অব্যাহতি পাওয়া- সেই আসামির সঙ্গে ভোটের মিত্রতা গড়েন তবে তা সাধারণ ভোটার জনগণ ভাল চোখে নেবে না। আর এটার ফেসবুকে এত প্রচার পাইছে… জনগণ সাখাওয়াতরে যতোটা ক্লিন ইমেজের মনে করছিল, ইকবালের সঙ্গে ঘোরাঘুরিতে সেইডা আর...

তার কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা ফুটে উঠতে দেখা গেল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে গণসংযোগের সময়ে ইকবালের হাত থেকেই সাখাওয়াত তার নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ গ্রহণ করেন। এছাড়া ইকবালের সঙ্গে সাখাওয়াতকে দীর্ঘ আলোচনা করে শলাপরামর্শ করতেও দেখা গেছে। তারা দীর্ঘক্ষণ এক সঙ্গে হেঁটে ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন ভোট চাইতে। অথচ সাত খুনের পর চার্জশিট থেকে অব্যাহতির পর বাদী পক্ষের না রাজী আবেদনের আইনজীবীও ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সাত খুন মামলার শুরু থেকেই বাদী পক্ষের হয়ে কাজ করে আলোচনায় আসেন।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের একজন ইকবাল হোসেন ৮ম শ্রেণি পাস। তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা তদন্তাধীন ও একটি বিচারাধীন রয়েছে। একটিতে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা মামলায় নূর হোসেনসহ ৬জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই ৬ জনের একজন হলেন ইকবাল। তবে বিউটির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এজাহারভুক্ত ৫ আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারী ইয়াছিন মিয়া, ইকবাল, হাসমত আলী হাসু, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু ও আনোয়ারকে।

এ ঘটনায় গত ১১ মে আদালতে সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশিটের বিরুদ্ধে না-রাজী প্রদান করেন। পরে আদালত না-রাজি পিটিশন খারিজ করে দেয়। বিউটি যে ৬জনকে আসামি করেছিলেন তাদের মধ্যে ষষ্ঠ আসামি ইকবাল হোসেন বিএনপির রাজনীতি এবং এলাকায় ভূমি বেচা-কেনার ক্ষেত্রে পরিচিত নাম। তবে তিনি আওয়ামী ঘরানার নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত।

প্রসঙ্গত, আগামি ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএ

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত