ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

স্বাধীনতা বিরোধী মোনায়েম খাঁর নামে বাড়ির বরাদ্দ বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৮:৪২, ৯ নভেম্বর ২০১৬   আপডেট: ১০:৫৭, ১১ নভেম্বর ২০১৬

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা: বাড়িটির আয়তন পাঁচ বিঘারও বেশি। এটি বরাদ্দ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী মোনায়েম খাঁর নামে। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ওই বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করেছে সরকার।

বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি জঙ্গিদমন অভিযানে রাজধানীর কল্যাণপুরে নিহতদের মধ্যে মোনায়েম খাঁর এক নাতিও ছিল। তার নাম আকিফুজ্জামান খান বলে জানা গেছে।

একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডো হামলায় নিহত মোনায়েম খাঁর উত্তরাধিকাররা এতদিন ওই বাড়ি সংলগ্ন ১০ কাঠা সরকারি জমিও ভোগ-দখল করছিল। গত ৩ নভেম্বর ওই অবৈধ দখল উচ্ছেদে করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

সেদিন উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মেয়র আনিসুল হক স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খাঁর নামে করা ওই বাড়ির বরাদ্দ বাতিলে সরকারকে আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ বলেন, ওইটা (মোনায়েম খাঁর নামে বরাদ্দ বাড়ি) ক্যানসেল হয়ে গেছে। আমি বলে দিয়েছি, যে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তার প্লট বাতিল হবে। সেটা গণপূর্তের প্লটই হোক বা রাজউকেরই হোক। সেটা বাতিল।

পাকিস্তান আমলে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের প্রভাবশালী ব্যক্তি মোনায়েম খাঁ ছিলেন মুসলিম লীগের বড় নেতা। ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করা হয় তাকে। স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে আইয়ুব খানের হাতিয়ার বনে যান এই ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ‘মোনায়েম খাঁ’ নামটি দালাল-বিশ্বাসঘাতক শব্দের প্রতিরূপ হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার শত্রু ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকাওয়ালাদের সামনের সাঁরিতে থাকা মোনায়েমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর বনানীর এই বাড়িতে (বাগ-এই মোনায়েম) হামলা চালানো হয়। সারাক্ষণ সেনা-পুলিশের কঅেটর নিরাপত্তায় থাকতো মোনায়েম। এমনি পরিস্থিতিতে ১৩ অক্টোবর কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা কমান্ডো মোজাম্মেল হকের গুলিতে আহত হন স্বাধীনতার এই শত্রু। এরপর হাসপাতালে মারা যায় সে। মোজোম্মেলের স্টেনগান থেকে ছোড়া গুলি বুকে লাগে দালাল মোনায়েমের। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১৪ বছর বয়সী এই অসম সাহসী যোদ্ধাকে পরে বীরপ্রতীক সম্মানে বূষিত করা হয়।

এদিকে রাজউক সূত্রে জানা গেছে, বনানীর ২৭ নম্বর সড়কের ১১০ নম্বর প্লটে পাঁচ বিঘার বেশি আয়তনের ওই বাড়িটি পাকিস্তান সরকারের গভর্নর থাকার সময় বরাদ্দ দেওয়া হয় মোনায়েম খাঁর নামে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬৬ সালে বনানীর এ-ব্লকের ১১০ নম্বরের পাঁচ বিঘা ১৫ ছটাক প্লটটি (যা মোনায়েম খাঁর বাড়ি সেবে পরিচিত) তৎকালীন ডিআইটি মোনায়েম খানের নামে বরাদ্দ দেয়। পরে ১৯৬৭ সালে লিজ দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি হয়।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত