ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

স্কয়ারে ভুল চিকিৎসা: আন্দোলনের ঘোষণা ভুক্তভোগী স্বজনের

তাজা খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৩, ১৭ মে ২০১৭   আপডেট: ১৬:০২, ২৩ মে ২০১৭

স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসার অবহেলায় গর্ভে শিশু মৃত্যুর পর সুচিকিৎসার জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী স্বজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার পর স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে নিজেদের ভুল স্বীকার এবং পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার পর এ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন আনিকা নামের এক প্রসূতির স্বামী জাহিদ।

গত ৭ মে গর্ভকালীন সমস্যা হলে আনিকাকে স্বামী জাহিদ স্কয়ার হাসপাতালে তাদের নিয়মিত চিকিৎসক কাজী শামসুন নাহারের কাছে নিয়ে যান। রাতে প্রসূতি মা আনিকা ভালো থাকলেও পরদিন ৮ মে জানানো হয় গর্ভেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জাহিদের পরিবারের দাবি, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার জন্য তাদের অনাগত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এজন্য তারা হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শেরেবাংলা নগর থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর  শের-এ-বাংলা নগর পুলিশের এস. আই. শুধাংশু সরকার ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ অবস্থায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন ভুক্তভোগী জাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আন্দোলনের আহ্বান জানান।

জাহিদ লিখেছেন, স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি সেই তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রইলাম।

ফেসবুক পোস্টে জাহিদ সুনির্দিষ্ট ১০টি দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ইমারজেন্সি রোগীর ক্ষেত্রে সিরিয়াল নেওয়া বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট যাতে না লাগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে,  রোগীর উপর প্রয়োগকৃত সকল মেডিসিন, ইঞ্জেকশন এর নাম এবং কি পরিমান প্রয়োগ করা হয়েছে সেটা অবশ্যই জানাতে হবে,  ওষুধ কোম্পানি কিংবা কোম্পানির প্রতিনিধিদের খুশি করার চেয়ে একজন রোগীর জীবন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে রোগীকে মেডিসিন প্রেসক্রাইব করতে হবে, মৃতদেহ হস্তান্তের ব্যাপারে আরও সতর্ক এবং আন্তরিক হতে হবে। ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ওই সময় উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করতে হবে, হাসপাতালে রোগীর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে একটু সময় লাগে। এই সময় রোগীর চিকিৎসা বন্ধ রাখা চলবে না, রোগীর ঝুঁকি বা জটিলতা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ড বসাতে হবে। অপারেশন কিংবা ডেলিভারি কেইসের ক্ষেত্রে ডাক্তারকে উপস্থিত থাকতে হবে। নার্স দিয়ে ডেলিভারি চলবে না।

জাহিদ দাবিগুলো আদায়ে সবার পরামর্শ ও মতামত চেয়েছেন। তিনি মনে করেন, যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ হলে সবাই কিছুটা শান্তি পাবে।  তিনি লিখেছেন, ‘আমি মনে করি ভালো ডাক্তাররাও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন, দাবি আদায়ের পক্ষে কাজ করবেন। উনারাই আমাদের ভরসা। ভালো ডাক্তারদের সন্মান আরও বৃদ্ধি পাবে আশা করি।’


নিউজওয়ান২৪.কম

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত