ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

মোদি জেতার সময়েও তারা উৎফুল্ল ছিলেন: ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৫:২২, ৭ নভেম্বর ২০১৬   আপডেট: ১৫:২৫, ৭ নভেম্বর ২০১৬

সাক্ষাৎকালে বায়দুল কাদের ও বার্নিকাট

সাক্ষাৎকালে বায়দুল কাদের ও বার্নিকাট

ঢাকা: আমাদের দেশে সরকার বা প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনে আমাদের চ্যালেঞ্জ বা বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে এই সম্পর্ক রক্ষা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে।

সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।


প্রসঙ্গত, আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন বা রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প- দুজনের যে কেউ একজন নয়া প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। এমন পটভূমিতে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সব মহলের জন্যই আগ্রহোদ্দীপক

উল্লেখ্য, নোবেলজয়ী ড. ইউনুস ক্লিনটনদের পারিবারিক বন্ধু। আর গ্রামীণব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ড. ইউনুসের হাত থেকে ছুটে যাওয়া নিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ড. ইউনুসের টানাপড়েন সর্বজন বিদিত। এ ঘটনার জের ধরে পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধা দিতে ড. ইউনুস আন্তর্জাতিক মহলে এবং বিশ্বব্যাংক লবিতে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালিয়েছেন- এ অভিযোগ সরকার পক্ষের।

আর ইউনুসকে গ্রামীব্যাংক থেকে অন্যায়ভাবে জোর করে সরিয়ে দিয়েছে সরকার- এ অভিযোগ ইউনুস পক্ষের। দু’পক্ষের এই রেষারেষি দেশ-বিদেশে অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট। তাই, কেউ কেউ ধারণা করছেন হিলারি ক্লিনটন ক্ষমতায় এলে তা বর্তমান সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হবে। বিষয়টি কেউ সরাসরি মুখে না বললেও সোমবার সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথায় অলক্ষ্যে বিরাজমান ছিল এই ইস্যুটিই।

এদিকে, মার্কিন অ্যম্বাসেডর তার সঙ্গে সাক্ষাতের পরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, অ্যাম্বাসেডর বলেছেন, তার দেশে যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন, যে গর্ভনমেন্টই ক্ষমতায় আসুক আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এরপর তিনি বলেন, আমিও বলতে চাই, আমেরিকায় যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন না কেন বাংলাদেশের সাথে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না।

আর বার্নিকাট অনেক বিষয় নিয়ে ওবায়দুলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বলেন, আমাদের নির্বাচন সামনে, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেবে জানুয়ারিতে। বেসরকারি খাতে উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালি মডেল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিনিয়োগ ও ব্যবসায় আমরা আরও সহযোগিতা করতে চাই।

এসময় ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছে’ বলে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি উৎফুল্ল হলে হতেই পারে, এটা তাদের নিজেদের ব্যাপার।

ওবায়দুল আরও বলেন, ভারতে নরেন্দ্র মোদি যখন জিতে যাচ্ছেন তখনও এ রকমই তারা উৎফুল্ল ছিলেন, বাকিটা বলতে চাই না। তখন আমি বলেছিলাম, ইলেকশন হচ্ছে ভারতে আমরা কেন এত উৎফুল্ল হচ্ছি, প্রয়োজন আছে কী? এর কোনো দরকার নেই।

বার্নিকাট-ওবায়দুল সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক ও সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা।

নিউজওয়ান২৪.কম/একে

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত