মায়ের মুখে কখনও হা-হুতাশ শুনিনি: শেখ হাসিনা
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: স্বামীর সাধের সংগঠন চালানোর প্রয়োজনে নিজ গহনা থেকে শুরু করে ঘরের ফ্রিজ পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।
কোনো বিষয় নিয়ে কখনও অভিযোগ-অনুযোগ তিনি করেননি স্বামীর কাছে।
আপন মা মহিয়সী নারী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের স্মৃতিচারণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গীনি হিসেবে নেপথ্যে থেকে শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব কীভাবে তার রাজনীতি ও মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্বদানে তাকে সহায়তা করেছেন, করেছেন উজ্জীবিত- তা মায়ের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্মরণ করে আবেগঘন আরও অনেক কথা বলেন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী শেখ হাসিনা।
সোমবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’-এর ৮৬তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁকে নিয়ে নানা স্মৃতি তুলে ধরেন বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, জীবনে যত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, তা আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু) করেছেন। প্রতিটি কাজ যে তিনি করেছেন, আমার মা কিন্তু ছায়ার মতো তাকে সাহায্য করে গেছেন। কখনও অভিযোগ-অনুযোগ তিনি করেননি।
বঙ্গবন্ধুর আনুগত্যে বেগম ফজিলাতুন্নেসা কতোটা কর্তব্যপরায়ণ আর নিবেদিত ছিলেন তার বর্ণনায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি (ফজিলাতুন্নেসা) যত কষ্টই হোক, বাবাকে কখনই বলেননি যে, তুমি রাজনীতি ছেড়ে দাও বা সংসার কর বা সংসারের খরচ দাও। কোনোদিন জীবনের কোনো প্রয়োজনে বাবাকে কখনও বিরক্ত করেননি। বরং আব্বা যে পদক্ষেপ নিতেন সেটাকেই সমর্থন করতেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতাময়ী মায়ের চারি্ত্রিক গুণাবলী বর্ণনায় আরও বলেন, একটার পর একটা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে, কিন্তু আমার মাকে কখনই আমি ভেঙে পড়তে দেখিনি। একটা মানুষের চরিত্র কতটা দৃঢ় থাকলে যে কোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ধারণ করতে পারে..। হা-হুতাশ করার কথা কখনও আমার মায়ের মুখে আমি শুনিনি।
ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে কারাগারে ও পরে সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় উল্লেখ করে নি বলেন, পাঁচ মাস আমরা জানতেও পারিনি তিনি বেঁচে আছেন কি না। সেই সময় আন্দোলন গড়ে তোলা… আমার মা আমাদেরকে নিয়ে ছোট ফুপুর বাসায় যেতেন। ওখানে গিয়ে পায়ের স্যান্ডেল বদলাতেন, কাপড় বদলাতেন, বোরকা পড়তেন, স্কুটারে করে আমার মামাকে নিয়ে ছাত্র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, আন্দোলন চালাবে
কীভাবে তার পরামর্শ দেওয়া, নির্দেশ দেওয়া- তিনি নিজে দিতেন।
দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করতে সর্বস্ব পণ করা স্বামীকে উজ্জীবিত রাখতে নেপথ্যে সবল ভূমিকা রাখা সহধর্মিনী স্বামীর আন্দোলন সফল করার জন্য তিনি কাজ করতেন বলে জানান শেখ হাসিনা। একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিন্তু কখনই পত্রিকায় ছবি ওঠা- এসব দিকে তিনি ছিলেন না।
বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে কীভাবে দলের জন্য নির্দেশ নিয়ে আসতেন দার বয়ান দেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়ের স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ। আমরা মাঝে মাঝে বলতাম- তুমি তো টেপ রেকর্ডার। আমাদের শিখিয়ে নিয়ে যেতেন কারাগারে গিয়ে কী করতে হবে। একটু হৈ চৈ করা, এর মাঝে বাইরের সমস্ত রিপোর্ট আব্বাকে দেওয়া এবং আব্বার নির্দেশটা নিয়ে আসা। এরপর সেটা ছাত্রদের জানানো। শ্লোগান থেকে শুরু করে বলতে গেলে সবকিছুই কিন্তু তিনিই (বঙ্গবন্ধু) কারাগার থেকে নির্দেশ দিয়ে দিতেন। সেভাবেই কিন্তু মা ছাত্রলীগকে কাজে লাগাতেন।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পটভূমিতেও সহধর্মিনী ফজিলাতুন্নেসার ভূমিকা ছিল। সাত মার্চের ভাষণের আগের সময়টার বর্ণনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কোনো নেতা বললেন ‘এখনি বলে দিতে হবে আজ থেকে স্বাধীন’। কেউ বললেন এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কেউ কেউ এসে বলেছেন এটাই করতে হবে, না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। অমুক হবে, তমুক হবে। এরকম বস্তাকে বস্তা কাগজ আর পরামর্শ… মা (তাঁকে)বললেন, সারাজীবন তুমি সংগ্রাম করেছ, জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছ, তুমিই জানো এদেশের মানুষ কী চায়, যেটা তোমার থেকে বেশি কেউ জানে না। কাজেই তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সেই কথাই বলবে। কারও কথা তোমার শুনতে হবে না। ঠিক তাই এই সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। (বঙ্গবন্ধুর) হাতে কোনো কাগজও ছিল না, কিছুই ছিল না।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ফজিলাতুন্নেসার জীবনের ওপর আলোচনা করেন লেখক সেলিনা হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
১৯৭১ সালের পরাজিত অপশক্তির ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আর কুমন্ত্রে বিপথগামী একদল সেনা সদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাঙালি জাতির অহংকারের পরশমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্ণেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করে।
প্রায় একই সময়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় বেন্টু খানকে হত্যা করে একই ঘাতক চক্র।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফজিলাতুন্নেসা মুজিব দম্পতির অপর দুই সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা সে সময় ইউরোপে থাকায় বেঁচে যান ওই জঘন্য হত্যাকাণ্ড থেকে।
নিউজওয়ান২৪.কম/এফএফ/এসএল
- ভাষা আন্দোলনের আদ্যেপান্ত
- মহান বিজয় দিবস আজ
- সেনা কল্যাণ সংস্থার শিক্ষামূলক বৃত্তির চেক পেল ২৯৩ শিক্ষার্থী
- বারবার ধর্ষন করা হয়েছে: সুকির দেশ থেকে পালিয়ে আসা নারীদের আর্তনাদ
- ‘বাড়াবাড়ি করছে, দিছি...সরাইয়া’
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিজিবির সব ইউনিট শাহাদাত বার্ষিকী পালন করবে
- ট্রেনের টিকিট কাটতে লাগবে এনআইডি নম্বর
- কুয়েতের সঙ্গে তিনটি নয়, চারটি চুক্তি স্বাক্ষর
- সেনাকল্যাণের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দরবার অনুষ্ঠিত
- পাকিস্তানি স্কুলের মতে ‘পাঞ্জাবি অশ্লীল ভাষা’!
- খালেদার আপিল শুনানির সময় ইসিতে যা ঘটেছে
- অনিরুদ্ধ অপহৃত নাকি আত্মগোপনে!
- আসল নকল থেকে সাবধান: ভয়াবহ বিপদ ঘটে যেতে পারে!
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক জরিপ ও সত্য-মিথ্যা
- ২১ ফেব্রুয়ারি
মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস এর উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল
মুশফিকের শততম টেস্টে হামজার বিশেষ বার্তা
‘ফাঁদে পড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অনেক বাংলাদেশি’
ভারতকে হারিয়ে ফিফা থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ