ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

‘বাঙালি জাতি হিসেবে পাওয়া সন্মানে আপনাদের বিরাট অবদান রয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২১ নভেম্বর ২০১৬   আপডেট: ২১:৩৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৬

ঢাকা: আজ বাংলাদেশকে যে গড়ে তুলতে পারছি, বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বে যে সন্মান আমরা পাচ্ছি- এখানে আপনাদের বিরাট অবদান রয়েছে। আপনাদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের উদ্দেশ্যে আজ (সোমবার) এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, এএফডি) আয়োজনে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাজেই, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণার্থে যা যা করনীয় আমি তা করে যাব।

এএফডি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়; যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তারা। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-২০১৬ সালে অনন্য ভূমিকার জন‌্য সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচজন সদস্যকে ‘শান্তিকালীন সেনা’, ‘বাহিনী পদক’ ও ‘অসামান্য সেবা পদক’ প্রদান করেন।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর উপর ন্যস্ত। এ পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

শহীদদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বলেন, আমি জানি আপনজন হারানোর বেদনা কত কষ্টের। সেই বেদনা বুকে নিয়েও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা আপনজন হারিয়েছেন বা পঙ্গু হয়ে আছেন বা যারা অবদান রেখেছেন- তাদেরকে সবসময় সন্মানিত হিসেবে গণ্য করি এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া কর্তব্য মনে করি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভূতপূর্ব অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে আমাদের সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের যতটুকু সম্পদ আছে তা যথাযথভাবে কাজে লাগালে অবশ্যই আমরা সন্মানের সাথে আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতি জেলা ও ৪২২টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৪৩টি জেলা ও ১৬১টি উপজেলায় কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিতে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তিন বাহিনী প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

 

 

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত