প্রসঙ্গ শফিক রেহমান: ইমরানকে সুবিধাবাদী-মিথ্যাবাদী বললেন জয়
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: শফিক রেহমানের গ্রেফতার প্রসঙ্গে গত শনিবার রাতে ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন, “প্রবীণ (৮১ বছর বয়সী) সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই।”
নিজের স্ট্যাটাসে ইমরানের ওই স্ট্যাটাস উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ জয় এজন্য তাকে ক্ষমা চাইতে বলেন। রোববার জয় তার ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন।
নিজের ফেসবুক পেজে জয় লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটন করেছে। তারা এ বিষয়ে প্রমাণাদি আমাদের সরকারের কাছে দিয়েছে। তাঁকে এই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারছি না। কিন্তু এই প্রমাণ দ্ব্যর্থহীন এবং অখণ্ডনীয়।”
এ প্রসঙ্গে জয় আরও বলেন, “আমি আশাই করেছিলাম বিএনপি এটা নিয়ে মিথ্যা বলার চেষ্টা করবে। যদিও আমি আশ্চর্য হয়েছি ইমরান সরকারের বিষয়ে। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা উন্মোচিত হলো। এটা দেখে মনে হচ্ছে, সে আমাদের বেশির ভাগ সুশীলের মতোই, আরেকটা সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী। হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে? যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি। তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমাদের সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
ফেসবুকে ইমরান সরকারের সঙ্গে সবাইকে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, “আমি আমার সকল বন্ধু এবং ভক্তদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যারা তাকে অনুসরণ করেন, তারা তাকে ফেসবুক থেকে আনফলো/আনফ্রেন্ড করুন। সে একজন অপরাধীর হয়ে কথা বলছে, যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।”
এদিকে জয়ের স্ট্যাটাস বিষয়ে ইমরান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি এমন কোনো কথা বা স্ট্যাটাস দেইনি যে, এর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমি কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করিনি। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বা ভিন্ন মতকে যেন রাজনীতিবিদেরা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন, সেটাই ছিল আমার মূল স্পিরিট।”
ইমরান আরও বলেন, “তাঁর (জয়) এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে-আমার মনে হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হলো।
জয় অপহরণ চক্রান্তে বাংলাদেশি ৩ জন জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে, শফিক রেহমানের গ্রেফতার নিয়ে চলমান বাদানুবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ চক্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের তিনজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডির বিলিয়া মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
শনিবার শফিককে গ্রেফতারের পরপরই বিএনপি এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়। বিএনপির মতে, সরকারের বিরুদ্ধে লেখার জন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য পেতে ওই দেশে থাকা এক বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজার এফবিআইর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন বলে দেশটির আদালতে প্রমাণিত হয়।
সিজার বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে। পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ড কাউন্টিতে বসবাস করছেন মামুন।
এ সংক্রান্ত মামলায় গত যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তাকে দণ্ড দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষতি করার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত তথ্য পেতে চেয়েছিলেন আসামি। তথ্য পাওয়ার পর তা বাংলাদেশি ‘একজন সাংবাদিককে’ সরবরাহ করেছিলেন সিজার।
মার্কিন আদালতের রায়ের পর জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ঢাকার পল্টন থানায় পুলিশ একটি মামলা করে, সেই মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জয়ের প্রাণনাশ চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্তকারীদের সঙ্গে শফিক রেহমানসহ দুই-তিনজনের যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাদের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে, এমন দুই/তিনজন বাংলাদেশের ভেতরে ছিলেন।”
বিষয়টি আরও খোলাসা করে তিনি বলেন, “তাদের মধ্যে আমরা অনুমান করছি, কথোপকথনের জের ধরে শফিক রেহমানের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল।”
শফিক রেহমান ছাড়া বাকি দুজন কারা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “একজনকে হয়ত জানেন, একটি পত্রিকায় সম্পাদক, তিনি কারা অন্তরীণ রয়েছেন।”
তবে ওই কারাবন্দি সম্পাদক বা অপর আরেকজনের নাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেননি। নঅবশ্য পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের কথায় জানা গেছে ওই ব্যক্তি হচ্ছেন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান যিনি বর্তমানে অন্য মামলায় জেলে আছেন। মনিরুল ইসলাম জানান, জয় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা ষরযন্ত্রের মামলায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হবে (শোন অ্যারেস্ট)।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে
- ভাষা আন্দোলনের আদ্যেপান্ত
- মহান বিজয় দিবস আজ
- সেনা কল্যাণ সংস্থার শিক্ষামূলক বৃত্তির চেক পেল ২৯৩ শিক্ষার্থী
- বারবার ধর্ষন করা হয়েছে: সুকির দেশ থেকে পালিয়ে আসা নারীদের আর্তনাদ
- ‘বাড়াবাড়ি করছে, দিছি...সরাইয়া’
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিজিবির সব ইউনিট শাহাদাত বার্ষিকী পালন করবে
- ট্রেনের টিকিট কাটতে লাগবে এনআইডি নম্বর
- কুয়েতের সঙ্গে তিনটি নয়, চারটি চুক্তি স্বাক্ষর
- সেনাকল্যাণের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দরবার অনুষ্ঠিত
- পাকিস্তানি স্কুলের মতে ‘পাঞ্জাবি অশ্লীল ভাষা’!
- খালেদার আপিল শুনানির সময় ইসিতে যা ঘটেছে
- অনিরুদ্ধ অপহৃত নাকি আত্মগোপনে!
- আসল নকল থেকে সাবধান: ভয়াবহ বিপদ ঘটে যেতে পারে!
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক জরিপ ও সত্য-মিথ্যা
- ২১ ফেব্রুয়ারি
মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস এর উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল
মুশফিকের শততম টেস্টে হামজার বিশেষ বার্তা
‘ফাঁদে পড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অনেক বাংলাদেশি’
ভারতকে হারিয়ে ফিফা থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ