ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

দুর্নীতির দায়ে এমপি ‘ইয়াবা-বদির’ তিন বছর জেলদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ২ নভেম্বর ২০১৬   আপডেট: ১৪:৩৪, ৩ নভেম্বর ২০১৬

এমপি বদি       -ফাইল ফটো

এমপি বদি -ফাইল ফটো

ঢাকা: ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত-সমালোচিত এমপি আব্দুর রহমান বদিকে সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালদ। একই রায়ে তার জরিমানা করা হয়েছে দশ লাখ টাকা। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের আওয়ামী লীগ এমপি বদির বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ বিচারক আবু আহমদ জমাদার আজ (বুধবার) এই রায় ঘোষণা করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বদি। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই রায়ের ফলে সংসদ সদস্য হিসে প্রাপ্য সুবিধাদি রহিত করা হবে তার। তবে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।

এদিকে, রায় ঘোষণার আগে দিয়ে আদালত কক্ষে এমপি বদির সঙ্গে তার সমর্থকদের মোবাইল ফোনে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। কর্তৃপক্ষের বারংবার নিষেধ সত্ত্বেও এমন চলতে থাকে বেশ কিছুক্ষণ।

দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্রে আসামি বদির বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের পাশাপাশি ঘোষিত আয়ের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়ে। দুদক আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থেকে আদালত খালাস দিয়েছে বদিকে। এই সাজার রায় এসেছে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়।

দুদকের করা মামলায় বুধবার রায়ের দিন নির্দিষ্ট ছিল বিধায় বদিকে আজ সকাল ১০টার পর আদালতে আনা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সালে আবদুর রহমান বদির সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকার। ২০১৩ সালে তিনি যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন, এতে দেখা যায়, তার সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এ সূত্রে দুদক সম্পদের বিবরণী চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল বদিকে।

ইয়াবা নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ

প্রসঙ্গত, সরকার দলীয় এই এসমপির বিরুদ্ধে বয়াবহ মাদক ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। মিডিয়া ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের কাছে ‘ইয়াবা-বদি’ হিসেবে পরিচিত বদি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ইয়াবা, মানবপাচার ও রোহিঙ্গাদের বৈধ করার সিণ্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

তবে গত জানুয়ারিতে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি পাল্টা অভিযোগ করেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকরা ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্যের পদ ত্যাগ করবেন।

কক্সবাজারে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান ও প্রচারণা মাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গত দুই জানুয়ারি কক্সবাজারের বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তবে এখন পর্যন্ত ইয়াবা চোরাচালান বা মানব পাচারের কোনো ঘটনায় বদির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানব পাচার, ইয়াবা চোরাচালান ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের অভিযোগে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় তার নাম থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বদি বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র থেমে নেই। যারা তালিকা করে, তারাও অবশ্যই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আপনি এলাকায় যান। দেখবেন আমি ইয়াবা, মানব পাচার—এসবের বিরুদ্ধে। আমি মানব পাচারকারীদের ধরিয়ে দিয়েছি। তারপরও ষড়যন্ত্র চলছে।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত