ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

দুইদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:২৫, ২ জুলাই ২০১৬   আপডেট: ১১:৪৭, ৮ জুলাই ২০১৬

ঢাকা: গুলশানে রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি মানুষকে জিম্মি হত্যার ঘটনায় দুইদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি নিহত পুলিশ সদস্য ও জিম্মিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে তিনি জঙ্গি বিরোধী ভূমিকায় সমর্থন সহযোগিতার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি জঙ্গিসংকট মোকাবেলায় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, পুলিশ-র‌্যাব, দমকলসহ সব বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতার প্রশংসা করেন।

জঙ্গি হামলাকে বর্বর ও কাপরুষোচিত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে এই হামলা নজিরবিহীন।

এ ধরনের হামলা ধর্ম ও মানবিকতার জন্য অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। একটি পক্ষ জনগণের মন জয়ে ব্যর্থ হয়ে এসব নৃশংস ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্তকারী ও সন্ত্রাসের মদদদাতাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, মানুষ হত্যা করে কী পেতে চান আপনারা?

তিনি তাদেরকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করবেন না। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন।

আস্থা রাখুন

সবশ্রেণির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঠেকাতে জনগণকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো মূল্যে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করব।

‘মুষ্টিমেয়’ বিপথগামী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি, কম্যুনিটি পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস মোকাবেলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী।

বিপথগামীদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সন্তানরা যেন বিপথে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করি।

সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্প জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না।

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ভাষণ টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে।

গত শুক্রবার রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে স্পেনিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনার পটভূমিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এ ভাষণ দেন।

মূলত বিদেশিদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২ জনকে নৃশংসতম উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করে আইএসের নামে বার্তা এসেছে ইন্টারনেটে। তবে এর সত্যাসত্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি প্রমাণ করে  দেশের অগ্রগতি ব্যাহত করার এজেন্ডা নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের হত্যাসহ এই ধরনের হামলা চালাতে পারে- এমন শংকা আগে কয়েকবার ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা।

ওই হামলা ও জিম্মিকরণের ঘটনায় জঙ্গিরা ২০ জন বিদেশি নাগরিককে জবাই করে। পরবর্তীতে সেনা কমান্ডোরা হামলা চালিয়ে বাকি জিম্মিদের উদ্ধার করে। এসময় ছয় জঙ্গি নিহত হয় ও আটক হয় একজন। এছাড়া উদ্ধার করা হয় নারী-শিশুসহ জীবিত ১৩ জন জিম্মিকে। এদের মধ্যে তিনজন বিদেশি যাদের একজন জাপানি ও দুইজন শ্রীলংকান।

নিউজওয়ান২৪.কম/একে

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত