ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

১৬ যাত্রী হত্যাকারী ‘নবাবজাদা ড্রাইভাররা’ ছিলেন ঘুমে!

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৩:৩২, ১৩ নভেম্বর ২০১৯  

দুর্ঘটনার পরের দৃশ্য

দুর্ঘটনার পরের দৃশ্য

তূর্ণা-নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু দে ট্রেনের অটো ব্রেকে ইট ঠেস দিয়ে ঘুম দিয়েছিলেন নিশ্চিন্তে। একথা জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র। যার চরম মাশুল দিতে হলো নিরপরাধ ১৬ যাত্রীকে প্রাণ দিয়ে। আর শতাধিক যাত্রী পঙ্গুসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আহত হয়েছেন।  

রেলওয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে আখাউড়া রেললাইনে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বরাবর যে নিয়ম মানা হয়, সেই রাতেও তাই ছিল। লাইনটি সিঙ্গেল হওয়ায় গত সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনকে স্টেশনে অপেক্ষায় রেখে তূর্ণা-নিশীথাকে যেতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক উদয়ন এক্সপ্রেস স্টেশনে প্রবেশের আগ পর্যন্ত মন্দবাগ স্টেশনের আউটারে অপেক্ষমান থাকবে ‘তূর্ণা-নিশীথা’।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত-নিয়ম কিছুই মানেনি তূর্ণা-নিশীথার বেপরোয়া অপরিনামদর্শী চালক ও তার সহকারীর। তারা অবশ্য পালনীয় নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেই রাতে পরপর তিনটি সিগন্যাল অমান্য করে। এসময় তূর্ণা-নিশীথার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার। এর ভয়াল পরিণতি যা হবার তাই হয়। মন্দবাগ রেল স্টেশনে সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পটভূমির বয়ানে এমন তথ্যই জানালেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র চালক ও তার সহকারীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ঘটনার পর থেকে তূর্ণা-নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমান পলাতক আছেন। ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।’

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের এক কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়াদের সূত্রে জানায়, ক্ষণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনার সময় ‘তূর্ণা-নিশীথা’ ছিল অটো ব্রেকে। মূলত বিরতিহীন ট্রেন হওয়ায় অটো ব্রেকে রেখেই লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তূর্ণাকে আউটারে থাকতে তিনটি সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল মন্দবাগ রেল স্টেশন থেকে। একই ট্রেনের দুইজন চালক একটি সিগন্যালও কেন দেখলো না? এর বাইরে আউটার, হোম, স্টার্টারসহ বেশ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া আছে। এসবের কোনোটাতেই তূর্ণা-নিশীথার চালকরা সারা দেয়নি। এর ফলে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে চলমান তূর্ণা-নিশীথা আঘাত করে এসে উদয়ন এক্সপ্রেসকে। ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

তার মতে, দুই মিনিট অপেক্ষা করলেও এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। কারণ, দুর্ঘটনার আগেই উদয়ন এক্সপ্রেসের ৯টি বগি স্টেশনে ঢুকে পড়েছিল। বাকি ৩টি বগিকে ধাক্কা দেয় তূর্ণা।’নিহত হয় শিশুসহ ১৬ জন, আহত শতাভিক ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের উপপরিচালক (জনসংযোগ) তৌষিয়া আহমেদ জানান, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার সিগন্যাল ভঙ্গ করে উদয়নকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি রেলপথ পরিদর্শক নিজে পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মৃতদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত