ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

সরকারের সহযোগিতা ইসি

নিউজ ওয়ান টুয়েন্টি ফোর ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৬, ২৬ অক্টোবর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে প্রায় তিন মাসব্যাপী সংলাপ শেষে নির্বাচন কমিশন মনে করছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে সরকারের সহযোগিতার ওপর। কেননা সংলাপে এমন কিছু প্রস্তাব রয়েছে যা সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।কয়েকজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পক্ষপাতহীনভাবে করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং এই চেষ্টার বিষয়টি সবাইকে জানানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকবে বলে জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো নিয়ে আইন সংশোধনেরও উদ্যোগ নেবে কমিশন। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলে মনে করেন কমিশনাররা।

কয়েকজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফলভাবে সংলাপ অনুষ্ঠানের পর এক ধরনের আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগছেন তারা। তবে একই সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চাপের মধ্যেও আছেন। কেননা নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছে, যতটুকু আস্থা অর্জন করেছে তা অব্যাহত রাখতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সাহসী ও সতর্ক ভূমিকা রাখতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে কমিশন আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সংলাপ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

এতে সংলাপে পাওয়া অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীতে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, কমিশন এখনো তাদের করণীয় বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করেনি। সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলোর সারসংক্ষেপ প্রস্তুত এবং এসবের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, `আমাদের সফলতার বিষয়টি নির্ভর করছে আমরা একটি সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারি কি না তার ওপর। সংলাপের পর আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়েছে। সংলাপে যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। প্রস্তাবগুলো মূল্যায়নের জন্য কমিশন একাধিক বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।`

সংলাপে পাওয়া প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দল আগামী সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা `ইভিএম` ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কমিশনের ধারণা, এটি অসম্ভব জেনেও হয়তো কৌশলগত কারণে প্রস্তাব এসেছে। পরে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে তারা বলতে পারবে, নির্বাচন কমিশন তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব মেনে নেয়নি।

এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে সংলাপে আসা কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, গত ২৩ অক্টোবরের সংলাপে নারী নেত্রীরা যেসব দল সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বিধান বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে তাদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে ওই দলগুলোর গঠনতন্ত্রেও নারী ও সংবিধানবিরোধী নীতি রয়েছে কি না তা কমিশনকে যাচাই করতে বলেছেন তারা।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এ ধরনের প্রস্তাব রেখেছিল। এরই মধ্যে দল দুটির গঠনতন্ত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

তা ছাড়া গত ২৪ অক্টোবরের সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক নির্বাচনী আইন সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও রয়েছে।

মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের যুক্তি, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত না করেও কার্যকরভাবে সেনা সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৩১ ধারা উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিধানের বলে প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও সেনাবাহিনীর একজন কমিশন্ড অফিসারও জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর অবৈধ সমাবেশ ভঙ্গের নির্দেশ দেওয়ার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের অধিকার রাখেন। এ প্রস্তাব কমিশনারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে তাতে সংলাপের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল, `নির্বাচনসংক্রান্ত যেকোনো আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়া প্রণয়নে এবং তা সংরক্ষণের প্রয়োজনে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ থাকা বাঞ্ছনীয়। তাদের মতামতের আলোকে এগুলো প্রণয়ন হলে আইন ও প্রক্রিয়ার প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।`

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত