ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

র‌্যাবের জালে ফেসবুক প্রতারক, ভুয়া ভার্সিটি ও ইয়াবা চালান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:৫২, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬   আপডেট: ১২:৫৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

র‌্যাবের হাতে আটক ফেসবুক প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য

র‌্যাবের হাতে আটক ফেসবুক প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য

ঢাকা: গত ২৪ ঘণ্টায় র‌্যাবের অভিযানে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে আটক হয়েছে ফেসবুক প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট, ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ভুয়া ডিগ্রি প্রদানকারী দুর্বৃত্ত চক্র ও ইয়াবার চালান।

র‌্যাব সূত্র নিউওয়ান২৪.কমকে জানায়, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক চক্রের পাঁচ সদস্যকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং বাকি তিনজন নাইজেরিয়ার নাগরিক। এরা হলেন- মোহাম্মদ আলী, মঞ্জুর মাহমুদ, ইজুচেউ ফ্রাঙ্কিন, ওবি হেচি ও ইক ফ্ল্যাস্ক। এদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলাদেশি বাকিরা নাইজেরীয়।

র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর গুলশান ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ডেসমন্ড বি স্যামুয়েল নামে কথিত এক ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত এক নারী চিকিৎসকের বন্ধুত্ব হয়। তার সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপ যোগে কথাও হয়। ‘বন্ধুত্বের’ সূত্রে স্যামুয়েল তাকে ইংল্যান্ড থেকে কিছু উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানান ওই নারী চিকিৎসক। ১০ ফেব্রুয়ারি নিজেকে মিন-রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে (০১৭৪৭২৬৪১০১) এক ব্যক্তি ব্রিটিশ বাচনভঙ্গিতে ওই চিকিৎসককে জানান, তার নামে একটি গিফট বক্স এসেছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাবদ ৫৬ হাজার ৫৬৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মিন-রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে ওই টাকা পরিশোধ করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি মিন-রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের একই প্রতিনিধি একই মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসককে বলেন, গিফট বক্সের স্ক্যান রিপোর্টের তথ্যে দেখা যায়, ওই বক্সে ডায়মন্ডের (হীরা) অতি মূল্যবান গহনা আছে, যার মূল্য ২ কোটি টাকা। ফলে ওই গিফট বক্স সংগ্রহ করতে তাকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো মিন-রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালে আরও টাকা জমা করেন।

ওই দিনই তৃতীয়বার চিকিৎসককে ফোনে জানানো হয়, বক্সের ভেতরে অনেক মূল্যবান দ্রব্যাদি থাকায় তাকে আরও ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। তখন তিনি গিফট বক্সের অবস্থান জানতে চাইলে জবাবে পরে জানানো হবে বলে বলা হয়। চিকিৎসকের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি র‌্যাবকে অবহিত করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা তদন্তে নেমে ব্যাংকে জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গেলে চক্রের সদস্য মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুর মাহমুদকে আটক করেন। পরে এই দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান নিকেতনের ব্লক-বি, রোড-১ এর ৮ নম্বর বাড়ি থেকে প্রতারক চক্রের ওই তিন নাইজেরিয়ানকে আটক করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ এবং ইমোর আইডিগুলো বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ওই তিন সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫৩ হাজার টাকা, পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ক্রেডিট কার্ড এবং বেশকিছু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এসব সামগ্রী তারা বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করতো। এছাড়া তাদের কাছে বৈধ কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছর ১৩ আগস্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুরের সঙ্গে যৌথভাবে গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু করেন নাইজেরিয়ান নাগরিকরা। গার্মেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুর ৫ শতাংশ করে কমিশন পেত। প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা টার্গেট করে সুপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছিল। তারা খুবই সুদর্শন কারও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক ও অন্যান্য আইডিতে এবং নিজেদেরকে আমেরিকা অথবা ইউরোপের নাগরিক পরিচয় দেয়- কথাবার্ত বলে বৃটিশ বা আমেরিকান অ্যাকসেন্টে। তাদের এই চক্রে কিছু মহিলা সদস্যও রয়েছে।

এলিট ফোর্স র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক এই অপরাধী চক্রটি ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

নারায়ণগেঞ্জ থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১ এর সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

আটকরা হলো- কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বেলঘরের অহিদুর রহমানের ছেলে আলী আহাম্মেদ এবং একই জেলার সদর দক্ষিণ থানার বালুয়াচর ধনপুরের মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে আবদুল জলিল।

সংবাদ সম্মেলন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান জানান, গোপন সংবাদের সূত্রে বুধবার রাতে র‌্যাবের একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের নয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখি একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালায় তারা। এসময় ৫৮হাজার ৭৭৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১২ হাজার ৫৯০ টাকা উদ্ধার করা হয় এবং কাভার্ড ভ্যানসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধভাবে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পাইকারী সরবরাহ করে আসছিল। তারা ইয়াবা পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানায় মাদক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মালিবাগে ভুয়া ভার্সিটির সার্টিফিকেট বাণিজ্য, আটক ২
একই দিন (বুধবার) রাজধানীর মালিবাগের আমেরিকা-বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় (এবিইউ) থেকে বিপুল সংখ্যায় নকল সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিন রাতে মালিবাগের ডিআইটি রোডের ১০৯ নম্বর বাড়িতে অভিযানটি চালানো হয়। এসময় বিশাল সংখ্যার ভুয়া সার্টিফিকেটসহ ২ নারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩।

ভুয়া এই ভার্সিটি থেকে মাত্র ১০হাজার টাকায় এমবিএ ডিগ্রির সার্টিফিকেট পাওয়া যেত বলে জানা গেছে।

গ্রেফতার দুজন হচ্ছে- ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাডমিশন এক্সিকিউটিভ মাকসুদা আক্তার (২৮) ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার শাকিলা সুহাগান জেরিন (২৬)।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, এটি ছিল একটি ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দুর্বৃত্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতারণা করে আসছে।

অভিযানের পর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে মাকসুদা ও শাকিলাকে দুই মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেন।

১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিনিময়ে বিবিএ-এমবিএ’র সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই জানা গেছে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে। তারা হলেন- আমেরিকা-বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী জেরিন ও মাকসুদা। তারা টাকার বিনিময়ে বিবিএ ও এমবিএ’র সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রি করত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটক মাকসুদা ও শাকিলা জানায়, ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিনিময়ে বিবিএ-এমবিএ’র সার্টিফিকেট বিক্রি করতো তারা। তারা টাকার বিনিময়ে ফরমায়েশ মোতাবেক বিবিএ ও এমবিএ’র সার্টিফিকেট তৈরি করে দিত।

নিউজওয়ান২৪.কম/এনএইচপি

 

 

 

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত