ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

যে আলো নেভেনি, ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩৫, ১৪ আগস্ট ২০১৯  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (প্রতীকী ছবি)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (প্রতীকী ছবি)

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে যায় একটি বর্বরোচিত ঘটনা। এ জাতির অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা রচনা করে ইতিহাসের এক ঘৃণ্যতম অধ্যায়।

এরআগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্নের আলো জ্বেলেছিলেন এদেশে। স্বাধীন দেশ সেই স্বপ্নেরই ফসল।  স্বাধীন দেশে যখন বঙ্গবন্ধু ফিরলেন তখন ছিল অন্যরকম এক উজ্জ্বলতা। যে আলো পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে। 

যদিও শত্রুরা তা নেভাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। কিন্তু সে আলো নেভেনি। বরং ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে। আজকের বাংলাদেশ তারই উদাহরণ।

বঙ্গবন্ধুর আলোকবর্ণনা করতে স্মৃতিচারণ করা যায় ১৯৭২ সালের ১০জানুয়ারির কথা। ঘড়ির কাঁটায় ১ টা ৪১ মিনিট। অন্যরকম উজ্জলতায় জ্বল জ্বল করছে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা।  আসলে জ্বল জ্বল করছিল প্রতিটি বাঙালির প্রাণ।  মাত্র ২৫দিনের শিশু দেশটি প্রথম পেল অভিভাবকের দেখা।  শীতের দুপুরটি এক ভিন্নরকম উষ্ণতা ছড়াচ্ছিল নিরলস। জাতি সেদিনের কথা ভুলবে না। বলছি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির কথা। বাংলার ইতিহাসে যেটি মুদ্রিত হয়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে। আর বঙ্গবন্ধু নিজেই দিনটিকে আখ্যায়িত করেছিলেন, ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।  জাতির জনক যথার্থই বলেছিলেন। সেদিন-ই প্রথম প্রাণ ভরে দম নিয়েছিল বাঙালি। পেয়েছিল স্বাধীনতার স্বাদ। শুরু করেছিল স্বপ্ন দেখতে। দেশটি যাত্রা শুরু হয় আলোর দিকে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।

জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে তিনি পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।

দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লিতে। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন।

বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকেল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে প্রবাসী সরকার তার নির্দেশনা অনুসরণ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। নয় মাসের যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের পথে মুক্তিযোদ্ধা, জনতা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ তীব্র হয়। জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হয় প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হলে পাকিস্তানি বর্বর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় তাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে। প্রবাসী অস্থায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকায় ফিরে সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিল। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম সরকারের সাফল্য ছিল যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং প্রায় এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন। বঙ্গবন্ধু সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এই গুরু দায়িত্ব সম্পন্ন করে। দুর্ভিক্ষের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, সরকার তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে।

সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন গড়ে তোলা হয়। বাংলাদেশ সেই মুহূর্তে অল্প সময়ের মধ্যে শতাধিক রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতা লাভের তিন মাসের মধ্যেই বাংলার মাটি থেকে ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাবর্তন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত