ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগ

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রবাসীদের কল্যাণে নেয়া নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ১০ বছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে রেমিট্যান্সও আসছে বেশি। গত ১০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৬৫টি দেশে কর্মী পাঠানো হয়। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।

এর মধ্যে ২০০৯ সালে চার লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন, ২০১০ সালে তিন লাখ ৯০ হাজার ৭০২জন, ২০১১ সালে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ৬২জন, ২০১২ সালে ছয় লাখ ৭ হাজার ৭৯৮জন, ২০১৩ সালে চার লাখ ৯ হাজার ২৫৩জন, ২০১৪ সালে চার লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪জন, ২০১৫ সালে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১জন, ২০১৬ সালে সাত লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১জন, ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫জন এবং ২০১৮ সালে সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।

এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক গেছেন চার লাখ ১৭ হাজার ৮৪ জন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ৪৪ হাজার ৭১৩ জন শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। এর পরের অবস্থানে আছে জর্ডান। দেশটিতে গেছেন ১২ হাজার ১২৩ জন। এছাড়া ওমানে গেছেন সাত হাজার ৯২৭ ও কাতারে দুই হাজার ৫২৩ জন।

বেড়েছে রেমিট্যান্স: ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ হাজার ১৮৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর আগের ১০ অর্থবছরে (১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০০৭-০৮ পর্যন্ত) এসেছিল মাত্র তিন হাজার ৩৬৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে গত ১০ বছরে ৯ হাজার ৮১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ ডলার, ২০০৯-১০ সালে এক হাজার ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, ২০১০-১১ সালে এক হাজার ১৬৫ কোটি তিন লাখ ডলার, ২০১১-১২ সালে এক হাজার ২৮৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, ২০১২-১৩ সালে এক হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার, ২০১৩-১৪ সালে এক হাজার ৪২২ কোটি ৮২ লাখ ডলার, ২০১৪-১৫ সালে এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ সালে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ ডলার, ২০১৬-১৭ সালে এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

এছাড়া গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। যা বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম চার মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আগের মাস সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। সব মিলে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৫ কোটি ডলার।

প্রণোদনা: চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এরইমধ্যে এ প্রণোদনা দেয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে বৈধভাবে দেশে ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠানো হলে অতিরিক্ত আরো ২ টাকা সরকার থেকে দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ: বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশক্ষিণ ব্যুরোর অধীনে কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে এ ধরণের ৭০টি প্রতিষ্ঠান হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৮৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

মৃত প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা: বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীর মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য দেয়া হয় ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রবাসীর পরিবারকে তিন লাখ টাকা অনুদান দেয় সরকার। মরদেহ হস্তান্তরের পরই তিন লাখ টাকা অনুদান দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যারা ছুটিতে এসে দেশে মারা যান তাদের পরিবারকেও এ অনুদান দেয়া হয়। তবে যারা অবৈধভাবে বিদেশে যান বা বিদেশে গিয়ে অবৈধ হয়ে মারা যান, তাদের পরিবারকে এ অনুদান দেয়া হয় না।

জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ২৪ হাজার ২৪৪ জন প্রবাসীর পরিবারকে ৬২৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার অনুদান দেয়া হয়েছে।

শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছেন প্রবাসীর সন্তানরা: প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০১২ সাল থেকে প্রবাসীর সন্তানদের জন্য এ বৃত্তি চালু হয়।

বিমার আওতায় প্রবাসীরা: বিমার আওতায় আনা হচ্ছে প্রবাসীদের। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে কোনো প্রবাসী মারা গেলে বা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিমা থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন প্রবাসী ও তার পরিবার। আর এ ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার সময় তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বিমার আওতায় আনা হচ্ছে। সেজন্য ‘প্রবাসী কর্মী বিমা নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

জানা গেছে, বিমা চলাকালীন যে কোনো কারণে বিমা গ্রাহক মৃত্যুবরণ করলে বিমা গ্রহীতার বৈধ উত্তরাধিকারীকে বিমা অঙ্কের শতভাগ অর্থ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রবাসী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গু অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত বিমার টাকা দেয়া হবে।

প্রবাসীর জন্য দূতাবাসগুলোতে মেডিকেল সেন্টার: প্রবাসী কর্মীদের জন্য দূতাবাসগুলোতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। যা বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দূতাবাসগুলোতে মেডিকেল সেন্টার হলে হয়রানি থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে প্রবাসীদের।

এসব বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের সেবায় মন্ত্রণালয় সদা সচেষ্ট। প্রবাসীদের জীবনের মান উন্নয়নে তারান কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রবাসীরা একেকজন রাষ্ট্রদূত। সরকার তাদের কল্যাণে আগামীতে আরো কাজ করবে।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত