ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে নিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

গত এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বে একটা স্থান অর্জন করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে নিয়ে যাব।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্বল্প সময়ে বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন এশিয়ার ১৩তম অর্থনৈতিক উন্নতির দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় অর্থনৈতিক উন্নতির দেশ। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। আমরা আরো অর্জন করতে পারব।

তিনি বলেন, এই সময়ে আমাদের চলার পথ কী খুব মসৃণ ছিল? ছিল না। আগুন দিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করা হয়েছে। বিআরটিসি আর্টিকুলেট বাসগুলো পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বিরোধী দল অত্যাচার নির্যাতনের কথা বলে। আমরা কম নির্যাতনের শিকার হইনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া বর্তমান সংসদে যারা বিরোধী দল তারাও বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার। সেই তুলনায় আমরা কিছুই করছি না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল তাদের ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। এই সব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। 

‘বাংলাদেশের যখন উন্নতি হয়, অগ্রগতি হয়, দেশ যখন এগিয়ে যায় তখন দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের পছন্দ হয় না। যারা সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, যারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল তারা ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে, করেই যাবে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে নিয়ে যাব।’

সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, প্রত্যেক এলাকায় সরকারের যে উন্নয়ন কাজগুলো চলছে, সেদিকে নজর রাখবেন। 

‘প্রত্যেকটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যাতে সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর রাখবেন। এতে দেশের উন্নয়নটা আরো ত্বরান্বিত হবে। মনে রাখবেন নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মঙ্গল করাই হচ্ছে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম দায়িত্ব। আশা করি, তারা সেই কাজটি করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পথে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এই উন্নয়নের ধারাটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, আমাদের যে লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে অবস্থান করতে পেরেছি, সেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। রাজনৈতিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চাটা আমরা অবাধ করে দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ২৬ টাকা। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্র ৩/৪ টাকা নিচ্ছি। এক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ল কোথায়? এলএমজি গ্যাস আমদানি করে বিতরণ করতে সরকারের খরচ হয় ৬০ টাকা, কিন্তু গ্রাহককে দিতে হচ্ছে মাত্র ১২ টাকায়। যে দামে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে আমরা বিক্রি করছি। খরচের টাকাও নিচ্ছি না। 

‘তা সত্ত্বেও কেন সমালোচনা? কেন আন্দোলন? ভর্তুকি দিয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কম দামে বিক্রি করার পরও যদি কেউ বলে দাম বাড়ল কেন? তাহলে বিদ্যুতের দরকার নেই, উৎপাদন বন্ধ করে দিই সব? বিদ্যুৎ ব্যবহার করার দরকার নেই। তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে খরচ তাই দিতে হবে। আমরা লাভ করতে চাই না।’

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত