ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২১
সর্বশেষ:
দেশে প্রথমবারের মতো সংবাদ পাঠ করলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে অনেককে জিয়া গুলি করে হত্যা করে: প্রধানমন্ত্রী

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বইমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫০, ৫ এপ্রিল ২০২১  

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে হঠাৎ বয়ে গেছে ঝড়। রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ে অমর একুশে বইমেলার চেনা রূপ অনেকটাই অচেনা হয়ে যায়।

ঝড়ের সময় বইমেলায় পাঠক ও প্রকাশকরা ছিলেন। তীব্রতা দ্রুত বেড়ে গেলে পাঠকদের অনেককে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে দেখা যায়। তবে ঝড়ের কবল থেকে বই রক্ষায় স্টলের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন।   

সরজমিনে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি স্টল আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্টলের মধ্যে রয়েছে বেহুলা বাংলা, বাবুই প্রকাশনী, আদিত্য অনীক প্রকাশনী। বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়নের নামফলকও ভেঙে পড়েছে।

ঝড়-বৃষ্টির সময় মেলায় যেসব দর্শনার্থীরা আটকে পড়েছিলেন তাদের অধিকাংশই আশ্রয় নেন ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ বা আশ্রয় কেন্দ্রে। বৃষ্টির সময় বেশ কিছুক্ষণ মেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থাতে ছিল। এসময় অন্ধকার নেমে আসে মেলা অঞ্চলে।

টাঙ্গন প্রকাশনীর প্রকাশক অজয় কুমার রায় বলেন, হঠাৎ দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন স্টলের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রাতে বৃষ্টি হলে বই ভিজে যাওয়াসহ আরো ক্ষতির আশঙ্কা করছি। এমনিতেই করোনার জন্য এবার মেলা ভিন্ন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আসলেই প্রকাশকদের বেগ পেতে হবে।

আদিত্য অনীক প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী জানান, ঝড়ো হাওয়ায় স্টলের নাম ফলক খসে পড়েছে। বেশ কিছু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় এই ক্ষতি আরও বাড়বে। 

তাম্রলিপির স্বত্ত্বাধিকারী সেজুতি বলেন, এবারের মেলার শুরুর সময় থেকে বৃষ্টির শঙ্কা ছিলো। আজ সেটা সত্যি হলো। বৃষ্টির কারণে প্যাভিলিয়নের সামনে বেশ কিছু বই ভিজে গিয়েছে। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে মেলা শুরু হবে দুপুর ১২টা থেকে, যা চলবে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। মেলা চালু রাখার এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদের বলেন, মেলা সচল রাখার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। করোনা মহামারির কারণে গত বছর বইয়ের ব্যবসায় ধস নামে। এই অবস্থায় মেলা বন্ধ হয়ে গেলে প্রকাশকদের লোকসানের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতো। তাই মেলা সচল রাখায় আশার আলোটি একেবারে নিভে গেল না।

এদিকে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপের আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় পাঠকের আনাগোনায় সরব ছিল বইমেলা। প্যাভিলিয়নে কম-বেশি দেখা গেছে বইপ্রেমীদের পদচারণা। এদিন দর্শনার্থীর চেয়ে পাঠকের সংখ্যাই ছিল। হাতে হাতে ঘুরেছে গল্প-উপন্যাস কিংবা কাব্যগ্রন্থে ভরা বইয়ের ব্যাগ। আসিফ আদনান নামে এক বইপ্রেমীর সঙ্গে কথা হয় মেলা প্রাঙ্গণে। তিনি বলেন, উপচে পড়া ভিড় না থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে বই সংগ্রহের সুযোগ পেলাম।  

আজকের নতুন বই

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেলার ১৮তম দিনে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, রাজনীতি, গবেষণাসহ বিবিধ বিষয়ের নতুন বই এসেছে ৪৮টি। এদিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে দুই হাজার ১৬১টি। বরাবরের মতো এবারও প্রকাশনায় এগিয়ে থাকলেও বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ। 

রোববার প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে গল্পের বই ১০টি, উপন্যাস আটটি, কবিতা ১৬টি, গবেষণা একটি, ছড়া দুটি, জীবনী একটি, রচনাবলি একটি, মুক্তিযুদ্ধ দুটি, ভ্রমণ একটি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একটি, ধর্মীয় একটি, সায়েন্স ফিকশন একটি ও অন্যান্য তিনটি।  

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত