ঢাকা, ২৫ মে, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

করোনা মোকাবিলায় ৫ প্যাকেজ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ৫ এপ্রিল ২০২০  

নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সার্বিক পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরতে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে ব্রিফিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি: সংগৃহীত

নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সার্বিক পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরতে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে ব্রিফিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি: সংগৃহীত


মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ৪ টিসহ মোট ৫টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসব প্যাকেজের আওতায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার, যা জিডিপি’র প্রায় ২.৫২ শতাংশ।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজগুলো নিম্নরূপ-

প্যাকেজ-১: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেয়া।

এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণ গ্রহিতা শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-২: ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান- ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেবে।

এ ঋণ সুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহিতা শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-৩: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো- ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। ইডিএফ-এর বর্তমান সুদের হার LIBOR + ১.৫ শতাংশ (যা প্রকৃত পক্ষে ২.৭৩%) হতে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

প্যাকেজ-৪: প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম (Pre-shipment Credit Refinance Scheme) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫: ইতোপূর্বে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন/ভাতা পরিশোধ করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতে পারি তাহলে কোনো সেকশনের মানুষই, যে যে সেকশনে কাজ করেন, কেউই অসুবিধায় পড়বেন না।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে নানা রকমের তথ্য আসছিল। অনেকে খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বিশেষ করে যারা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য জড়িত। কৃষি-কামার, কুমার-জেলে, তাঁতী, পোল্ট্রি-মৎস্য, ডেইরি বিভিন্ন ব্যবসায় যারা জড়িত, তারা বেশ সমস্যায় পড়ে গেছেন বলে মনে করছেন। তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বিশেষ করে ঋণ নিয়ে, বিভিন্ন ধরনের বিল নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।’

‘আমি মনে করি আজকে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আমরা জানিয়েছি তা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। যাতে করে তাদের ব্যবসা-কর্ম খুব ভালোভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। আমি চাই না কেউ কষ্ট করুক।‘

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও আজকের একটা অদ্ভূত ধরনের আয়োজন হয়ে গেল। বলে যাচ্ছি কিন্তু কোনো সাংবাদিক নেই।’

শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের বক্তব্য শেষ করেন।

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত