ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:

এটিএম বুথ জালিয়াতি: টাকা ফেরত পেলেন ইবিএল গ্রাহকরা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৩:১৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬   আপডেট: ০০:৫৫, ১৫ এপ্রিল ২০১৬

ঢাকা: এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ব্যাংকটি। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) সম্মেলন কক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে পাঁচজন গ্রাহকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রাপ্য টাকা তুলে দেওয়া হয়।

ইবিএলের জনসংযোগ বিভাগ প্রধান জিয়াউল করিম জানান, তাদের ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত অন্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের টাকা যার যার হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র রাজধানীর কয়েকটি এটিএম বুথে বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে ইস্টার্ন ব্যাংকের মোট ২৮ জন গ্রাহকের ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা তুলে নেয় সম্প্রতি। গত ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীতে ইস্টার্ন, সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চার বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে কার্ডের তথ্য চুরি ও পরবর্তী সময়ে কার্ড ক্লোন (কপি) করে গ্রাহকদের অজান্তে টাকা তুলে নেয় অসাধু চক্র। ঘটনা জানাজানি হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। এ ঘটনায় ইউসিবি গত শুক্রবার বনানী থানায় ও সিটি ব্যাংক গত সোমবার পল্লবী থানায় আলাদা মামলা করে।

নজরদারিতে সন্দেহভাজন বিদেশিরা

কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় চার-পাঁচজন বিদেশি পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, শনাক্ত বিদেশিরা পূর্ব ইউরোপসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশের নাগরিক হতে পারেন। নিশ্চিত হয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে, ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিবির ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা। তিনি বলেন, জালিয়াতির ঘটনা জানাজানির পরপরই গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১২০০ কার্ডের তথ্য চুরি!

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় চারটি ব্যাংকের ৪০ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের হিসাব থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের ২৮ জন, সিটি ব্যাংকের ৪ জন, ইউসিবির ৭ জন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ জন রয়েছেন। ইস্টার্ন, সিটি ও ইউসিবির গুলশান, বনানী ও মিরপুরের কালশী এলাকার মোট চারটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসানো অবস্থায় ১ হাজার ২০০ কার্ডের লেনদেন হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এসব কার্ডের তথ্য চুরি হয়েছে বলে ধারণা করছে। এসব কার্ড নিষ্ক্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে সব কটি কার্ড নিষ্ক্রিয় করে তার বিপরীতে বিকল্প কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিউজওয়ান২৪.কম/এনএইচপি

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত