ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

পুলিশ কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ১০ মে ২০২৬  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত


পুলিশ প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর কল্যাণ প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রথম দ্বার। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব’।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।

তিনি বলেন, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবেই সেটি পুলিশের সাফল্য এবং পরোক্ষভাবে সরকারেরও সাফল্য।

সাধারণ মানুষ যেন কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং প্রতিকার পান, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষ সাধারণত চরম বিপদে পড়েই থানায় যায়। তাই আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পুলিশের আচরণে মানবিকতার ছোঁয়া থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আপনারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, পুলিশের পক্ষে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা সম্ভব। ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় এখন অতীত’।

প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান যেন বাংলাদেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসতে না পারে।

পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস এবং সাইবার পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মাদক, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং এবং আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে অভিযানের তাগিদ দেন।

নারীদের জন্য বর্তমানে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো ‘সাইবার বুলিং’ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব’। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন থেকে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মেধা, যোগ্যতা এবং সততাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া সারাদেশ থেকে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

নিউজওয়ান২৪.কম/গাজী NewsOne24.com/Gazi

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত