ঢাকা, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

রবি ঠাকুরের তিরোধান দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৫, ৬ আগস্ট ২০১৯  

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ বাইশে শ্রাবণ কিংবা রবি ঠাকুরের তিরোধান দিবস। বিশ্বব্যাপী রবিভক্তদের কাছে দিনটি শোকের, শূন্যতার।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যু নিয়ে বলেছেন— ‘...সংসারের বাহিরেতে কিছুই না থাকে যদি, আছে তবু দয়াময় মৃত্যু’ (বিসর্জন)। আরো লিখেছেন– ‘জীবন যাহারে বলে মরণ তাহারি নাম/ মরণ তো নহে তারপর’ (অনন্ত মরণ)। 

তাই অনেক সময় ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের জীবনে অন্য এক মাধুর্যে ধরা দিয়েছে যেন। বছর ঘুরেই তো বাইশে শ্রাবণ আসে। বিশ্বব্যাপী রবিভক্তদের কাছে বাইশে শ্রাবণ দিনটি শোকের, শূন্যতার। রবীন্দ্র কাব্যসাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন, সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন এদিন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশেষভাবে স্মরণ করার জন্য দুটি দিন রয়েছে—পঁচিশে বৈশাখ এবং বাইশে শ্রাবণ। আজ ২২শে শ্রাবণ, বিশ্বকবির ৭৮তম প্রয়াণ দিবস। বাংলাদেশ ও ভারতে এ দুটি দিনেই তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। কিন্তু এমন কোনদিন নেই যেদিন তাকে আমরা স্মরণ করি না। বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। জড়িয়ে রয়েছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তার নাম। তাকে আমরা ভালোবাসি শুধু কবি, সঙ্গীত রচয়িতা বা সুরস্রষ্টা হিসেবেই নয়, আমাদের মাতৃভাষার উন্নয়নে তিনি যে কাজ করে গেছেন, মাতৃভাষাকে বিশ্ব অঙ্গনে পরিচিত করানোর জন্য তার যে অবদান, সেইজন্যও আমরা তাকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। তার প্রতি বাংলাভাষী মানুষের কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ধরনের লেখা দেশ-বিদেশে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও নাটক প্রচার করছে। এছাড়াও বিশ্বকবির প্রয়ান দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন আজ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

ইত্যাদি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত