ঢাকা, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

খুলে দেয়া হলো বিজিএমইএ ভবন!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩২, ১৮ এপ্রিল ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করে দেয়ার একদিন পর মালামাল সরিয়ে নিতে আবারও খুলে দেয়া হয়।

মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ওই ভবনের তালা খুলে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এএসএম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকাল ৫টার মধ্যে মালামাল সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, যারা মালামাল সরিয়ে নিতে আবারও আবেদন করেছেন তাদের জন্য আমরা আজকে তালা খুলে দিয়েছি৷

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিচালিত অভিযানে ভবন মালিকদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য কয়েক দফা সময় দেয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান ফটকে সিলগালা করে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএর এই ভবন ভাঙা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় দেন।

ওই রায়ে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমি ১৯৯৮ সালে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যেভাবে বিজিএমইএকে দিয়েছে, তা বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয় এবং রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

এর পর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজিএমইএর ওই আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা বিজিএমইএর আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়।

এর পরও ভবন না ভাঙতে আদালতের কাছে বারবার সময় চান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল মুচলেকা দিয়ে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় পান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।

এ সময় পার হওয়ায় মঙ্গলবার বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

তবে আজকেও যদি মালামাল সরিয়ে নেয়া শেষ না হয়, তা হলে তারা আবেদন করলে আমরা ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেব।

নিউজওয়ান২৪/ইরু

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত