ঢাকা, ২৫ মে, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

কাল সাকরাইন, চলছে ঘুড়ি কেনাকাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৩, ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

পৌষ সংক্রান্তি উৎসব সাকরাইনের ঢাকাইয়া আয়োজনের মূল উপভোগ্য বিষয় হলো ঘুড়ি ওড়ানো। কাল বৃহস্পতিবার ১৪ তারিখ পৌষ মাসের শেষ দিনে পুরান ঢাকাবাসী মেতে উঠবে রঙে রঙিন সাকরাইন উদযাপনে। 

আর তারই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার অলিগরিতে চলছে ঘুড়ির কেনাকাটা।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, সারাবছর এখানে শাঁখা, পিতল আর নানারকম পূজার সামগ্রী বিক্রি হলেও সাকরাইন উৎসবের আগে আগে এটি হয়ে ওঠে ঘুড়ির গলি। এখানে স্থায়ী ঘুড়ির দোকান যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে মৌসুমি ঘুড়ির দোকান।

শাঁখারীবাজার ঘুরে দেখা যায় এখানকার প্রায় প্রতিটি দোকানে ঝুলছে রঙ বেরঙের ঘুড়ি। কাগজের তৈরি ঘুড়ির পাশাপাশি রয়েছে প্লাস্টিক ও কাপড়ের তৈরি একটু বড় আকারের ঘুড়ি। আকার এবং কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে এসব ঘুড়ির দামেও রয়েছে পার্থক্য। একদম ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১২শ বা ১৫শ টাকারও ঘুড়ি মিলবে এখানে। একটু বড় আকারের চাইনিজ ঘুড়িগুলোর দাম কিছুটা বেশি। তবে বিক্রেতারা বললেন, এগুলো সাকরাইনের পরে সাজিয়েও রাখে অনেকেই।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সাকরাইন উপলক্ষে অক্টোবর থেকেই ঘুড়ি কেনাবেচা শুরু হয়েছে। শাঁখারীবাজারে সোনার দোকান রয়েছে পরিতোষ নন্দীর। সাকরাইন উপলক্ষে তিনি এখন মৌসুমি ঘুড়ি বিক্রেতা। প্রতিবছর এই সময় তিনি  আট থেকে ১০ হাজার ঘুড়ি বিক্রি করেন। 

কোনো ঘুড়ি বিক্রেতার নিজের হাতে তৈরি, কোনো দোকানে আবার মিলছে পাইকারি দরে কিনে আনা ঘুড়ি। এসব ঘুড়ির আবার রয়েছে আলাদা আলাদা নাম। চোখদার, দুইবোয়া, চারবোয়া, পঙ্খীরাজসহ নানা নামের ঘুড়ি মিলবে এখানে।

ঘুড়ির পাশাপাশি শাঁখারীবাজারের এই স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘুড়ির দোকানে মিলছে নানা রঙ ও আকারের নাটাই আর সুতা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল শুধু সাকরাইন ঘিরেই নয়, পুরনো ঢাকার এই গলিতে সারাবছরই ঘুড়ি পাওয়া যায়। উৎসবমুখর পুরান ঢাকার বাসিন্দারা ঈদ, পূজাসহ নানা উপলক্ষেই ঘুড়ি ওড়ান।

নানা বয়সী ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই গলি। হবে নাইবা কেন, সাকরাইন যে মূলত ঘুড়ি ওড়ানোরই উৎসব। তবে সবাই যে সাকরাইনের জন্যই ঘুড়ি কিনতে এসেছেন তা নয়। কিশোর ও তরুণদের অনেকেই শুধুমাত্র শুক্রবারের ছুটির দিনে ওড়ানোর জন্য ঘুড়ি কিনতে এসেছে। অবসর সময়ে তারা দলবেঁধে ছাদে উঠে ঘুড়ি ওড়ায়। সাকরাইন ঘিরে তাই তাদের উৎসাহের সীমা নেই। সেদিন যে মনের আনন্দে ইচ্ছামত ঘুড়ি ওড়ানো যাবে।

কথা হলো সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারজানের সঙ্গে। তার হাতে একগাদা ঘুড়ি। পুরান ঢাকার চাপা গলিতে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি তাদের প্রধান বিনোদন ছাদে উঠে দলবেঁধে ঘুড়ি ওড়ানো। মাহমিদ ও তার বন্ধুরা তাই অধীর আগ্রহে সাকরাইনের প্রতীক্ষায় রয়েছে।

ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঘুড়ি কাটাকাটি করা। ঘুড়ির সুতায় ধার বাড়াতে দেয়া হয় মাঞ্জা। কিন্তু আজকাল আলাদা করে মাঞ্জার চাহিদা কমে আসলেও ঘুড়ির সুতাতেই রয়েছে বৈচিত্র্য।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

ইত্যাদি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত