ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

আজ সাকরাইন, পুরান ঢাকার আকাশ থাকবে ঘুড়ির দখলে 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

চক্ষুদার, মালাদার, চারবুয়া, মাছলেঞ্জা, গাহেল- কতো নামের নানান রং আর বাহারের ঘুড়িতে ভরপুর পুরার ঢাকার বিশাল আকাশ।

চক্ষুদার, মালাদার, চারবুয়া, মাছলেঞ্জা, গাহেল- কতো নামের নানান রং আর বাহারের ঘুড়িতে ভরপুর পুরার ঢাকার বিশাল আকাশ।

পুরান ঢাকায় আজ ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব যাকে পৌষ সংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসব বলেও বর্ণনা করা হয়।

তবে বাংলা ক্যালেন্ডার এবং পঞ্জিকা তারিখের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্যের কারণে অনেকে আগামীকালও এই উৎসবটি পালন করবেন।

যেমন: পুরান ঢাকায় সাকরাইন মাঘের প্রথম দিন পালিত হয়। তাই বাংলা একাডেমির পঞ্জিকা মতে ১৪ জানুয়ারি এ উৎসব পালন করার হয়। আর পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারের আদি হিন্দু পরিবারগুলো লোকনাথ পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ জানুয়ারি মাঘের প্রথম দিন মেনে এ উৎসব পালন করে।

বলা যায়, আজ পুরনো ঢাকার বিশাল আকাশ আর ছাদগুলো থাকবে ঘুড়ি এবং ঘুড়িওয়ালাদের দখলে।

আগে এ উৎসবটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয় এ দিনটি।

উৎসবে অংশ নেন সব ধর্মের সব বয়সী মানুষ।

উৎসবকে মাথায় রেখে টানা এক সপ্তাহ পুরান ঢাকার বায়ান্নো রাস্তা তেপান্নো গলির অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে হয়েছে সুতা মাঞ্জা দেয়ার ধুম। রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলেছে পুরোদমে।

চক্ষুদার, মালাদার, চারবুয়া, মাছলেঞ্জা, গাহেল- কতো নামের নানান রং আর বাহারের ঘুড়িদের সাম্যবাদ হবে সাকরাইনে। ভোরবেলা কুয়াশার আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু হয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট বড় সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি ছাদ।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে উৎসবের জৌলুস। শীতের উদাস দুপুর আর নরম বিকালে আকাশে গোত্তা খাবে নানান রংয়ের ঘুড়ি। ঘুড়িতে ঘুড়িতে হৃদ্যতামূলক কাটা-কাটি খেলাও চলবে। অহরহ কাটা-কাটি খেলায় হেরে যাওয়া অভিমানী ঘুড়ি সুতার বাঁধন ছিড়ে উড়ে যাবে দূরে। চারিদিক থেকে শোনা যাবে ভোঁকাট্টা বা ভাকাট্রা রব।

এক দশক আগেও ছাদে ছাদে থাকত মাইকের আধিপত্য। আজ মাইকের স্থান দখল করেছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। সন্ধ্যায় মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে আকাশে অগ্নিকুণ্ড তৈরি, ফানুস ওড়ানো অথবা আতশবাজিতে মুখর থাকবে আকাশ।

সাকরাইনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে চলে প্রস্তুতি। সুতোয় কাচ, রং দিয়ে ‘মাঞ্জা’ দেয়া হয়। শাঁখারিবাজারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকার, আকৃতির ঘুড়ি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বানিয়ে নেন ঢাউস ‘ল্যাঞ্জার’ ঘুড়ি। ঘুড়ির লেজকে পুরান ঢাকায় বলে ল্যাঞ্জা।

ছাদে ছাদে বন্ধুবান্ধবের দল টাকা তুলে এসব আয়োজন করে। লাখ লাখ টাকার বাহারি আতশবাজি পোড়ানো হয় সাকরাইনকে কেন্দ্র করে।

উৎসবের আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র। সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, ধোলাইখাল, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ মাতবে ঐতিহ্যের এই উৎসবে। আকাশে উড়বে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগাবে গান।

সাকারাইন উৎসব এখন আর শুধু ঢাকাইয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাকরাইন পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে। এখন সাকরাইনে নতুন ঢাকাসহ নানান এলাকা থেকে মানুষ আসে পুরান ঢাকায়। অনেক বিদেশি পর্যটকও ভিড় জমায় এখানে।

পুরান ঢাকার এসব ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন এবং ঐতিহ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

ইত্যাদি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত