ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ:

প্রয়োজনীয় যে সব ওষুধ...

প্রকাশিত: ১০:৫৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:০২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সচেতনতার। কিন্তু কীভাবে আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হবেন? কীভাবে মোকাবিলা করবেন সাধারণ ও জটিল সব রোগ?

‘স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল’। তবে প্রতিদিনের জীবনে হঠাৎ করেই বিভিন্ন রোগে ভুগতে হয় আমাদের। যেমন- মাথা ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, পেটের সমস্যা এই তিনটি কমন রোগ হিসেবে বিবেচিত। এসব সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা অবস্থায় যদি নির্মূল করা না হয় তবে পরবর্তিতে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

আজ এমন কিছু রোগের ওষুধ সম্পর্কে আলোচনা করব যা নিত্যদিনের প্রয়োজনের তালিকায় রাখা উচিত। মনে রাখবেন, সকল ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ মতে খাওয়া উচিত-

টাফনিল:

এটি মাইগ্রেন আক্রমণের চিকিৎসায় সর্বাধিক ব্যবহৃত ওষুধ। টাফনিল আপনার সব রকম মাথা ব্যথার অবসান ঘটাবে। প্রতি ট্যাবলেটে রয়েছে ‘টোফেনামিক এসিড ২০০ এমজি’। এটি গ্রহণের ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ব্যাথার পরিমান অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আসে। ৩০ বা ৪৫ মিনিট পর ব্যাথা ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনবে। শুধু মাথা না, শরীর ব্যাথা, দূর্বলতা ও বমিভাব কমিয়ে আনবে। এটি খুব হাই ডোজের ওষুধ তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিৎ না। এতে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে যেমন, পেটে ব্যথা, মুখ প্রদাহ, বদহজম ইত্যাদি। এলার্জি আছে এমন রোগী, গর্ভাবস্থায়, অস্ত্রপচারের আগে খাওয়া উচিত নয়।

ভারগন:

এমন কিছু মানুষ আছে যাদের গাড়িতে অভ্যাস একেবারেই নেই। আবার সামান্য ভ্রমণ মাথা ঘুরানো তার পর অসম্ভব বমি। তখন যদি একটি ভারগন নেয়া যায় তাহলে আর বমি হবার সম্ভবণা থাকবে না। এতে তেমন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই তবে অতিরিক্ত সেবন না করাই ভালো। এটি যেকোনো ওষুধের দোকানে পাবেন। এছাড়াও ডমপেরিডন ট্যাবলেট, সাপোজিটরি সিরাপ নেয়া যেতে পারে।

ডুরালাক্স (ট্যাবলেটে বা সিরাপ):

কোষ্টকাঠিন্যে ভোগে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। এটি আসলে কোনো রোগ না, দৈনিন্দন জীবনের অনিয়ম ও ভুল খাদ্য গ্রহণের ফল। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে স্বস্তি পেতে ডুরালাক্স গ্রহন করতে পারি। এতে রয়েছে ‘বিসাকডিল-৫ মিলি’। কার্যকারী ফলাফল পেতে সিরাপ সেবন করবেন। তবে এগুলো থেকে ভেজষ পাতা অনেক উত্তম। এমন একটি পাতা ‘টিনেভেলি সেন্না; যা মুদি দোকানগুলোতে ‘সোনাপাতা’ নামে পরিচিত। এই পাতার রস পান করলে কোষ্টকাঠিন্য ভালো হয়। তবে এতেও রয়েছে কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। বেশি সেবনে হাত পা ব্যাথা হতে পারে। ভালো হয় যদি নিয়মিতভাবে প্রচুর পানি ও শাক-সবজি খাওয়া যায়।

এসোমিপ্রাজল, ওমিপ্রাজল:

অনেকের বুকে জালাপোড়া বা গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হয়। এই সমস্যা মোটামুটি সবারই হয় বিশেষ করে ভরপেট খাওয়ার পর কিংবা ভাজা-পোড়া বা তৈলাক্ত খাবার খেলে। পাকস্থলীতে হাইড্রক্লোরিক এসিডের পরিমান বেড়ে গেলে এ সমস্যা বেশি হয়, অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মত বুকে ব্যাথা হয়। তখন উপরোক্ত যেকোনো ট্যাবলেট খেলে ব্যাথা অনেকটাই নিরাময় হয়। এছাড়া দ্রুত ফল পেতে পানিতে মিশিয়ে ‘ইনো’ খাওয়া যেতে পারে, এরপর ও যদি ব্যাথা না কমে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ফেক্সোফেনাডিন:

অ্যালার্জি প্রতিষেধক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। নাক বন্ধ, বারবার হাঁচি দেয়া ইত্যাদি সমস্যায় এই ট্যাবলেটটি খুবই কার্যকর। তবে এর কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে যেমন হচ্ছে মাথাব্যথা, কোমর ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, উদ্বিগ্নতা, ক্লান্তি ইত্যাদি। এ ওষুধের কার্যকারিতা প্রায় ১৪ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।

ফ্লাজিল:

ডাইরিয়া ও ডিসেন্ট্রি থেকে মুক্তি দেয় ফ্লাজিল। ফুড পয়জনিং এমনকি গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যার কারণেও ডাইরিয়া কিংবা ডিসেন্টি হতে পারে। এমন সময় একটি ফ্লাজিল ট্যাবলেট ও একটি গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেটে খেতে পারেন। এর প্রতিটি ট্যাবলেটে রয়েছে মেট্রোনিডাজল ‘২০০/৪০০ এমজি’। তবে ডায়রিয়া হলে স্যালাইনের বিকল্প নেই। এছাড়া ও প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে।

উপরোক্ত ওষুধগুলোর পরিমিত সেবনে সাময়িকভাবে রোগাভাব থেকে মুক্তি পাবেন। চাইলে ভ্যানিটি ব্যাগে কিংবা অফিসের ড্রয়ারেও এসব প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখতে পারেন।

নিউজওয়ান২৪/আরএডব্লিউ

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত