ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

সিপিআর:  জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা কৌশল (ভিডিও)

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২০, ২৯ আগস্ট ২০১৯  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রাইম ব্যাংকে কাজ করা অবস্থায় এক নারী মারা গেছেন, এই মারা যাওয়ার ভিডিও অনেকেই অনলাইনে দেখেছেন।

কাজ করার সময় অফিসে নারী ব্যাংকারের মৃত্যুর ভিডিও দেখুন...

ইউটিউবে সার্চ দিলে অনেক ভিডিও পাবেন। দেখবেন বিদেশের মার্কেটে, মাঠে ময়দানে বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ কেউ একজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে, তখন কোথা থেকে ছুটে এসে কিছু হিরো অজ্ঞান হওয়া লোকের বুকের ওপর উঠে চাপাচাপি করছে, খানিকক্ষণ পরেই সেই অজ্ঞান হওয়া লোক জ্ঞান ফিরে পেয়েছে।

যারা এভাবে ছুটে এসে জীবন বাঁচায় তাদেরকে সমাজে হিরো বলে ট্রিট করা হয়, তাদের বলা হয় 'সিপিআর হিরো'। তারা কিন্তু স্ট্রেঞ্জার, মানে সাধারণ লোক। বিদেশের অনেক সাধারণ লোকেরই এই ট্রেনিং নেয়া থাকে।

সিপিআর কী?

কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) হলো একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা কৌশল। সাময়িকভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ কিছু সময় কৃত্রিমভাবে চালিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করাকে বলে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর।

বিদেশের অনেক কলেজ ভার্সিটিতে মাঝে মাঝে ফ্রি-তে সিপিআর করা শেখায়। আমাদের দেশেও সম্ভবত কয়েকটি অরগানাইজেশন এগুলো শেখায়। সব জায়গায়ই এই প্রাথমিক চিকিৎসার সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা আছে। এটা একটা জীবন বাঁচানো প্রাথমিক চিকিৎসা।

এই বুকে উঠে চাপাচাপি করাকে বলা হয়- Cardiopulmonary resuscitation (CPR)।

এটা জানা থাকলে আশেপাশে হার্ট এটাক হওয়া বা নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়া, হার্টবিট বন্ধ হওয়া যে কারো জীবন বাঁচানো যেতে পারে।

সিপিআর দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হার্টের ওপর চাপাচাপি করে কোনো রকমে হার্টটাকে একপ্রকার রিস্টার্ট দেয়া, আবার কোনোরকমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ চালু করানো। প্রাইম ব্যাঙ্কের ভিডিওটিতে দেখা যায় পড়ে যাওয়ার পর অনেক লোক মহিলাকে ঘিরে ধরেছে। এটা খুব ভুল, আশেপাশে কোনো ভিড় করতে দেয়া যাবে না, কারণ এতে উল্টো মহিলাটির শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সুযোগ কমে গেছে ভিড় করায়।

রেডক্রসের ওয়েবসাইট থেকে অনুবাদ করে আমি সিপিয়ার এর স্টেপগুলো এখানে অনুবাদ করে দিচ্ছি।

সিপিআর দেয়ার আগে যেসব বিষয় চেক করতে হবে-

(১) প্রথমে দেখে নেন আশেপাশের পরিবেশ নিরাপদ কীনা। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া লোকটার কাঁধে একটা চাপড় দিন, দিয়ে জিজ্ঞেস করুন- আর ইউ অকে?? মানে সব ঠিকঠাক কিনা! মানে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে লোকটার আসলেই সাহায্য লাগবে কীনা। যদি তার সাহায্য চাওয়ার মত অবস্থা না থাকে তবেই সাহায্য করা শুরু করুন!

(২) ৯৯৯ কল দিন। এম্বুলেন্স টেন্স নিয়ে আসতে ফোন করে দিন।

(৩) বাংলাদেশে কেউ পড়ে যাওয়া মাত্রই আশেপাশে লোকজন ভিড় করে মজা দেখতে শুরু করবে, তাদের তাড়িয়ে দিন, নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাই সিপিআর এর মূল উদ্দেশ্য। চিত করে শুইয়ে দিন।

(৪) দেখুন শ্বাস নিচ্ছে কিনা। যদি দেখেন ১০ সেকেন্ড কোনো শ্বাস নিচ্ছে না, তবে সিপিআর শুরু করে দিন।

কীভাবে সিপিআর দিবেন:

(১) হাত বুকের মাঝ খানে রাখুন , একটু বাম দিকে। শরীরের ওজন দিয়ে জোরে জোরে চাপ দিতে থাকুন। বেশ জোরে যেন দুই ইঞ্চি পরিমাণ দেবে যায় প্রতিবারে। মিনিটে ১০০ বার এমন চাপ দিন।

(২) মুখের মাঝে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিন। এটাকে বলে রেসকিউ ব্রেথ।

(৩) আবার বুকের মাঝে ১ নম্বর নিয়মের মতো করে চাপ দিতে থাকুন যতক্ষন, না শ্বাস-প্রশ্বাস আবার চালু হয়। চাপ দিতেই থাকুন!

অনেক হালকা মনে হচ্ছে জানি। কিন্তু বিশ্বাস করুন ঠিক এই কাজটা করলেই আজকে হয়তো নারীটির প্রাণ বেঁচে যেত। এই বিষয়গুলা জেনে রাখলে হয়তো আপনার কোনো আত্নীয় স্বজনের জীবনও বাঁচবে!

CPR লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে অনেক ভিডিও পাওয়া যাবে এ বিষয়ের ওপরে। দেখতে পারেন।

সিপিআর- এর একটি ট্রেনিং ভিডিও দেখুন>>>

 

তবে আমাদের দেশের মানুষের মতো পণ্ডিত সারা পৃথিবীতে আপনি খুঁজে পাবেন না, হাসপাতালে অনেক সময় ডাক্তাররা CPR করতে গিয়ে রোগীর স্বজনদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়। আর রাস্তাঘাটে করতে গেলে তো ধইরা পিটাইবো , বলবে যে যাতা দিয়ে রোগী মেরে ফেলেছে। তাই সাবধান!

(শুভ কামাল-এর ওয়াল থেকে সংগৃহীত, সংযোজিত ও সম্পাদিত)

নিউজওয়ান২৪.কম/আ.রাফি

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত