ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

যেভাবে পাওয়া গেল উত্তরার খালে অস্ত্র-গুলির খোঁজ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:২২, ১৮ জুন ২০১৬   আপডেট: ১৬:০৬, ২১ জুন ২০১৬

উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলির একাংশ

উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলির একাংশ

ঢাকা: কারা, কেন, কী উদ্দেশ্যে উত্তরার দিয়াবাড়ির ওই প্যাগোডার পাশের খালে এত বিশাল সংখ্যার অস্ত্র-গুলি রেখে গেল। বিশেষ করে দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী জঙ্গি বিরোধী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের পর পর এ ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললেও কিভাবে খালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি রাখার এ ঘটনা উদঘাটন হলো তার বয়ান পাওয়া গেছে।

ডিমএমডি সূত্র নিউজওয়ান২৪.কমকে জানায়, শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় তুরাগের ষোলহাটি এলাকা দিয়ে স্ত্রী ও বাচ্চাসহ মোটরসাইকেলে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন ডিএমডির এক কনস্টেবল।

একপর্যায়ে তার বাচ্চার প্রসাবের বেগ চাপে। ওই এসআই সেখানকার প্যাগোডার পাশের খালের কাছে মোটরসাইকেল থামান। এরপর বাচ্চাকে খালের পাড়ে প্রস্রাব করাতে নিয়ে যান। এসময় তিনি দেখতে পান অদূরে একটি কালো পাজেরো জিপ দাঁড়িয়ে আছে। আর গাড়িটি থেকে তিনজন লোক কালো পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি পোটলা খালে ফেলছে।

সূত্র মতে, পাজেরা গাড়িটি ছিল নাম্বারহিবীন।

কনস্টেবল ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে সেলফোনে ওসি তুরাগকে জানান।

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা সঙ্গে সঙ্গে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। ডিএমপি সূত্র জানায়, এর মাঝে ওই তিনব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

তুরাগ থানা সূত্র আরও জানায়, পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে দমকলের ডুবুরি দল সেখানে পৌঁছে। বিকাল ৪টার পর থেকে ফায়ার ব্রিগেডের ডুবুরি মনির ও মকবুলসহ ঢাকা ও গাজীপুরের আটজন ডুবুরি অস্ত্র উদ্ধার তৎপরতা চালান।
রাত ৮টার পর অভিযান শেষ হয়।

পুলিশ ধারণা করেছিল, পাজেরো থেকে ফেলা কালো ওই প্যাকেটগুলো ছাড়াও আরও অস্ত্র-গুলি থাকেতে পারে খালের পানিতে। কিন্তু শেষপর্যন্ত ওই প্যাকেটগুলো ছাড়া ডুবুরিরা আর কিছু খুঁজে পাননি যাতে অস্ত্র বা গুলি আছে।

যা যা পাওয়া গেল

উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলি ও অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আছে ৯৫টি ৯.৬২ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল, দুইটি একই ধরনের দেশি পিস্তল, ১০টি বেয়নেট, ১৮৯টি ৭.৬৫ পিস্তলের ম্যাগজিন, ১০ গ্লোক পিস্তলের ম্যাগজিন, ২৬৩টি এসএমজির ম্যাগজিন (সাবমেশিনগান বা একে-৪৭ রাইফেল), ২২০ রাউন্ড ৭.৬৫ বোরের গুলি, ৮৪০ রাউন্ড নাইন এমএম পিস্তলের গুলি ১০৪টি গুলি তৈরির ছাঁচবোর্ড ও ১৯টি অস্ত্র পরিস্কার করার কিট।

ডিএমপির ডিসি মিডিয়া মাসুদুর রহমান নিউজওয়ান২৪.কমকে জানান, এমন নিরালা স্থানে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি কারা কেন রাখলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে উগ্রপন্থিদের হাতে একের পর এক ‘টার্গেট কিলিং’ চলার আবহে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে আততায়ীরা। এই চাঞ্চল্যকর খুনের পর গত ১০ জুন ভোর থেকে জঙ্গি দমনে দেশব্যাপী ‘সাঁড়াশি অভিযান’ শুরু করে পুলিশ।

সপ্তাহব্যাপী চলা অভিযানে ১১ হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সন্দেহভাজন মোট ১৯৪ জঙ্গিকেও গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


নিউজওয়ান২৪.কম/এনপ/একে

উত্তরায় বৌদ্ধমন্দিরের পাশের খালে ৯৭ পিস্তল-হাজারের বেশি গুলি

 

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত