ঢাকা, ০১ অক্টোবর, ২০২২
সর্বশেষ:

যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত বিএনপির 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থায়ী কমিটি। তিনি বলেন, ‘অতি দ্রুত আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে আমরা আপনাদের সামনে, জাতির সামনে আসব।’

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভা হয়। সভার সিদ্ধান্তগুলো জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

রূপরেখা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বলছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য। এই সংসদ বাতিল করতে হবে এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, যাদের নেতৃত্বে নতুন একটা নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এটাই আমাদের প্রধান বিষয়।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাছাড়া আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর আন্দোলনকারী সব দলকে নিয়ে তাদের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এর প্রধান কারণটা হচ্ছে, এখানে এই যে ক্ষতগুলো সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ- এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় সেগুলো এককভাবে করাটা (সংস্কার) যুক্তিসংগত হবে না। সে কারণে অন্যান্য দলকে যুক্ত করতে চাই, যাদের যৌথ আলোচনায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পার্লামেন্ট, মিডিয়া এসবের ক্ষেত্রে যেন আমরা সুস্পষ্ট সবার সম্মতিক্রমে না হলেও কনসেনসাসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সে জন্য আমরা এই চিন্তাটা (জাতীয় সরকার) করেছি।’

যুগপৎ আন্দোলনে সব দলের জন্যই দরজা খোলা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের রাস্তা খোলা। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, যেকোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন- যারা এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবে, তাদের নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে এখনো আমরা ফরমালি কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।’

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এবং ২০ দলে থাকা না–থাকা নিয়ে জামায়াতের আমিরের দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ নিয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে আগে কথা বলেছি। ওরাও (জামায়াত) একটু বক্তব্য দিয়েছে। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি এখন। এটা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। সব দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন করবে। এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।’

বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা-গুলির ঘটনার উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা ভালো করে লক্ষ করে দেখবেন, সব জায়গায় এই ঘটনাগুলো ঘটছে না বা সব পুলিশই এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে না। কয়েকটা জায়গাতে অতি উৎসাহী কিছু অফিসার, তাঁরা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংগঠন। আমরা কখনোই পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। আমরা এটাও আমরা মনে করি যে তাদের সংবিধানিক যে দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্ব তারা পালন করবে। কিন্তু সরকার অবৈধভাবে টিকে থাকার জন্য সংবিধান লঙ্ঘন করে, মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যখন পুলিশকে ব্যবহার করে, তখন নিঃসন্দেহে সেই বিষয়গুলো জনগণের সামনে, মানুষের সামনে এসে দাঁড়ায়। আজ র‌্যাবকে যে কারণে স্যাংশন দেওয়া হয়েছে, সেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগটা হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া যে আপনারা সরকারের অবৈধ, বেআইনি নির্দেশে এমন কোনো কাজ করবেন না, যে কাজগুলোর কারণে আবার আপনাদের ওপরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আসতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধি, ওষুধের দাম বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

নিউজওয়ান২৪.কম/রাজ

আরও পড়ুন