ঢাকা, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
সর্বশেষ:

‘পৃথিবী বড় স্বার্থপর, কেউ কারো আপন নয়’

নিউজওয়ান২৪ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১ জানুয়ারি ২০২৩  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো


আমার জীবন কাহিনি সিনেমার চাইতে কোনো অংশে কম নয়।। ছোট্ট বেলা বাবাকে হারিয়ে অনেক কষ্টে বড় হই। মা, ভাই ও আমরা দুই বোন জীবনের সাথে যুদ্ধ করে পড়ালেখা করি।

২০১০ সালে কানাডার এক বিদেশি বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়, সেই বিদেশি বন্ধুর সহযোগিতায় কানাডায় আসি। তারপর ভাই,বোন, দুলাভাইকে এবং মাকে কানাডায় নিয়ে আসি। ২০১৫ সালে কানাডার সিটিজেনশীপ পাই, এখানে আমার রেস্টুরেন্ট ও গার্মেন্টসের ব্যবসা আছে। একা একা সব কিছু দেখভাল করতাম। হঠাৎ করে ফেইসবুকে নোয়াখালীর এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়। তার সাথে কথা বলে জানতে পারি সে এতিমখানা থেকে বড় হয়। তার বাবা নেই, মা অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসার করে। সে অনেক কষ্টে এতিমখানা থেকে বড় হয় এবং পড়াশোনা করে। বিশ্বাস করুন তার দুঃখের কথা শুনে আমি কেঁদে ফেলি।

সে ঠিক মতো দুই বেলা ভাত খেতে পায় নাই। আমিও জীবনে অনেক কষ্ট করি এবং তার কথা শুনে তার জন্য খুব মায়া হয়। আমি তাকে খুব বিশ্বাস করি এবং পছন্দ করি, তাকে বিয়ে করার জন্য সিদ্ধান্ত নেই। তারপর তার জন্য কানাডার ভিসা প্রসেসিং করি, ভিসা হলে বাংলাদেশে গিয়ে বিয়ে করে কানাডায় নিয়ে আসি। বিয়ের দুই বছর খুব ভালো ছিলাম। আমার হাসব্যান্ড আমার সব কথা শুনে চলতো, আমরা প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতাম। হঠাৎ করে আমার হাসব্যান্ডের পরিবর্তন লক্ষ করি, কিন্তু যাই হোক আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিলো না। কারণ তাকে আমি বিশ্বাস করে ভালোবেসে বিয়ে করি। কানাডায় সেটেল করি।

আমার যখন দ্বিতীয় বাচ্চা পেটে খুব অসুস্থ হয়ে পরি, তখন আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করতে পারছিলাম না, আমার হাসব্যান্ডকে বললাম আমি অফিসে যেতে পারবো না, তুমি সব কিছু দেখো। আমার সব কিছু তাকে বুঝিয়ে দেই। দ্বিতীয় বাচ্চা হওয়ার এক মাস আগে আমার হাসব্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও গার্মেন্টস থেকে ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে অন্য মেয়ের সাথে পরক্রিয়া করে পালিয়ে যায় ফ্রান্সে।

যখন শুনতে পেলাম সে আমাকে ও বাচ্চাদের ফেলে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছে, মনে হলো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার মাথায়। আমি কাঁদবো না চিৎকার করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি কিছুই জানি না। আমার মা আমাকে বললো, এমন ছেলেকে বিয়ে করলে, তোমার বাচ্চা হবে আর তোমাকে ফেলে অন্য মেয়ের সাথে চলে গেলো। আমি মায়ের কোলে মাথা রেখে অনেক কেঁদেছি। কিছু দিন পর হাসপাতালে ভর্তি হই, আমার ছেলে হয়, নার্স জিজ্ঞেস করে আপনার ছেলে হয়েছে, ছেলের বাবা কোথায় মিষ্টি খাওয়াতে হবে। আমি বললাম ছেলের বাবা মারা গেছে। আমার বুকের ব্যথা আল্লাহ ছাড়া কাউকে দেখানো যাবে না।

এর পর বাচ্চাদের কথা ভেবে অনেক মানুষকে বিশ্বাস করি, কিন্তু প্রত্যেকে আমার সাথে বেইমানি করছে। কেউ আমাকে বা আমার বাচ্চাদের ভালোবাসে নাই। পৃথিবী বড় স্বার্থপর, কেউ কারো আপন নয়।

সবাই বলুন, এখানে আমার দোষ কোথায়? বিশ্বাস ও ভালোবেসে গরিব ঘরের ছেলে বিয়ে করেছি, এটাই আমার ভুল ছিলো, দোষ ছিলো?? আল্লাহ জানেন আমি এখনও রাতে ঘুমাতে পারি না, হাজারো কষ্ট চিন্তা ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়; এতো খারাপ মানুষকে বিশ্বাস করে আমার ও বাচ্চাদের জীবন নষ্ট হলো। আমার ছোটো বাচ্চা আজ পর্যন্ত তার বাবাকে দেখে নাই।

সতর্কতা- আমি যে ভুল করেছি, আমার মতো এমন ভুল করবেন না। বিয়ে করার আগে অবশ্যই ভালো করে বুঝে শুনে তারপর করুন। আমি চাইলে ভালো বড় লোকের ছেলেকে বিয়ে করতে পারতাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও করি নাই। শুধু চেয়েছি একটা বিশ্বাসযোগ্য মানুষ আর ভালোবাসা, টাকা পয়সার লোভ করিনি। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তাতেই খুশি আমি।

(ফেসবুক পোস্ট থেকে)

নিউজওয়ান২৪.কম/মারজান

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত