ঢাকা, ০৩ জুলাই, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

ডেঙ্গু জ্বরে কী কী পরীক্ষা এবং কখন করাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ২৮ জুলাই ২০১৯  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এডিস মশার কামড়ে এটি ছড়ায়। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক মশা এর নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

ডেঙ্গু জ্বরে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে; এতে জীবনের ঝুঁকি আছে।

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী কী পরীক্ষা এবং কখন করাবেন...

জ্বরের শুরুতে বা দুই-একদিনের জ্বরে রক্ত পরীক্ষায় কোনো কিছু শনাক্ত নাও হতে পারে এবং তা রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। রোগী এমনকি ডাক্তারও মনে করতে পারেন যে রিপোর্ট ভালো আছে, তাই আর কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

মনে রাখতে হবে যে প্লাটিলেট কাউন্ট চার বা পাঁচ দিন পর হতে কমতে শুরু করে, তাই জ্বর শুরুর পাঁচ বা ছয় দিন পর রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এর আগে পরীক্ষা করলে তা স্বাভাবিক থাকে বিধায় রোগ নির্ণয়ে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় তেমনি অপ্রয়োজনে পয়সা নষ্ট হয়। অনেকেই দিনে দুই-তিনবার করে প্লাটিলেট কাউন্ট করে থাকেন। আসলে প্লাটিলেট কাউন্ট ঘনঘন করার প্রয়োজন নেই, দিনে একবার করাই যথেষ্ট, এমনকি মারাত্মক ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারেও।

তাছাড়া একইসঙ্গে একাধিক ল্যাবরেটরি থেকে প্লাটিলেট কাউন্ট না করানোই ভালো, এতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। দেখা যায় বিভিন্ন ল্যাবরেটরি থেকে বিভিন্ন রকমের রিপোর্ট আসছে, এতে কোনো রিপোর্ট সঠিক তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

আরো একটি পরীক্ষা অনেকেই করে থাকেন, যেমন এন্টি ডেঙ্গু এন্টিবডি। এই এন্টিবডি সাধারণত চার থেকে ছয় দিন পর তৈরি হয়। তাই এই সময়ের আগে এই পরীক্ষা করলে রক্তে এন্টিবডি পাওয়া যায় না যা রোগ নির্ণয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে।

ডেঙ্গু এন্টিবডির পরীক্ষা পাঁচ বা ছয় দিনের আগে করা উচিত নয়। মনে রাখা দরকার যে, এই পরীক্ষা রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করলেও রোগের চিকিৎসায় এর কোনো ভূমিকা নেই। এই পরীক্ষা না করলেও কোনো সমস্যা নেই, এতে শুধু অর্থের অপচয় হয়।

লক্ষণ:

১। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়।

২। মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেটে ব্যথা, মাংসপেশি ও মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

৩। বমি বমি ভাব এবং বমি।

৪। রক্তচাপ হ্রাস, নাড়ির গতি দ্রুত হওয়া, ছটফট করা, শরীরে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

৫। লালচে বা কালো রঙের পায়খানা হওয়া।

৬। চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা, নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

৭। রোগী শিশু হলে অতিরিক্ত কান্না বা অস্থিরতা এমনকি অজ্ঞান হয়ে পড়া;

৮। শরীরে হামের মতো দানা দেখা দিতে পারে।

৯। হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ এবং পেটে ও ফুসফুসে পানি জমতে পারে।

প্রতিরোধ:

১। এডিস মশা ডেঙ্গুজ্বরের একমাত্র বাহক। তাই বাহক মশার দমনই হচ্ছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

২। বাড়ির আশপাশের বদ্ধ পানি সরিয়ে ফেলুন। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা জন্মায়, তাই অব্যবহৃত পাত্র, ড্রাম, ডাবের খোসা, কৌটা নারকেলের মালা, ভাঙা কলস, ফুলের টব, জলকান্দা, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের তলায় পানি জমতে দেয়া যাবে না।

৩। ঘরে কয়েক দিনের মধ্যে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে পারে। তাই ঘরে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

৪। বাড়ি ও বাড়ির আঙিনায় ব্যবহার্য পাত্র যেমন পানির হাউজ, পানির ড্রাম, চৌবাচ্চা ইত্যাদি সংরক্ষিত পানি ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। সিমেন্টের চাড়ি, বালতি, পাতিল, কড়াই, ফুলের টবের নিচে ট্রে ইত্যাদিতে জমাকৃত পানি অবশ্যই পাঁচ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করতে হবে। এসব পাত্রের ভেতরের দিক সম্পূর্ণভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৬। দিনের বেলা ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।

৭। ঘর শুকনো ও অন্ধকারমুক্ত রাখতে হবে।

নিউজওয়ান২৪.কম/আ.রাফি

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত