অটিস্টিক শিশুদের কমিউনিকেট করতে উৎসাহ দিন এই ৫ পদ্ধতিতে
স্বাস্থ্য ডেস্ক
অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে অনেকেরই অন্যদের সাথে কমিউনিকেট করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। অটিজম স্পেক্ট্রাম এর একটি বড় লক্ষণ হচ্ছে যে তারা সোশ্যাল কমিউনিকেশনে দুর্বল হয়। আজ আমরা এখানে পাঁচটি পদ্ধতির কথা বলব যাদের মাধ্যমে আপনি সকল ধরণের (ভার্বাল বা ননভার্বাল) অটিস্টিক শিশুদের কমিউনিকেট করতে উৎসাহ দিতে পারবেন।
প্রথম পদ্ধতি: আপনি তার জগতে প্রবেশ করুন বা তার পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে আসুন।
সকল অটিস্টিক শিশুরই কিছু না কিছু পছন্দের বিষয় আছে। এটি হতে পারে কোনো সুনির্দিস্ট খাবার, কোন নির্দিষ্ট খেলনা বা কোনো গান বা সিনেমা কিংবা কোনো একজন ব্যক্তি। শিশুটির এই পছন্দের ব্যক্তি বা বস্তু দিয়েই তাকে কমিউনিকেট করানোর চেষ্টা শুরু করতে হবে।
পছন্দের ব্যক্তি দিয়ে আপনি তাকে কমিউনিকেট করানোর প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে সে ব্যক্তিকে দিয়ে ফ্যামিলি ফটো দেখিয়ে তাকে চেনাতে শুরু করুন, এটা বাবা, এটা মা কিংবা এটা ভাইয়া। অথবা ছবিতে চিহ্নিত করে তাকে বলুন, বাবা, মা, ভাইয়া। অর্থাৎ আপনি এখানে যুগপতভাবে ভিজ্যুয়াল এবং অডিটরি মাধ্যম ব্যবহার করছেন।
আরও পাড়ুন প্রতিবন্ধী শিশু বহিষ্কার: স্কুলের নামে মামলা অ্যাটর্নি জেনারেলের
শিশুটিকে উৎসাহিত করুন যাতে সে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বাবা, মা বা ভাইয়া। মনে রাখবেন- শিশুটি কিন্তু তার পছন্দের ব্যক্তির সাথে কমিউনিকেট করতে পছন্দ করবে। যখন শিশুটি চিহ্নিত করতে পারবে তখন তাকে তার পছন্দের খাবারটি পুরস্কার হিসেবে দিতে পারেন। আবার একইভাবে তাকে তার পছন্দের খেলনাটি দিয়ে সে খেলনাটির নাম উচ্চারণ করতে উৎসাহিত করতে পারেন। শিশুটি এ পদ্ধতিতে শব্দ উচ্চারণ করা শুরু করলে তাকে ফ্ল্যাশকার্ড পদ্ধতিতে বিভিন্ন বস্তুর ছবি দেখিয়ে দেখিয়ে তার নাম উচ্চারণ করা শুরু করাতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি তার সাথে কথা বলার সময় যদি দেখেন যে সে আপনার সাথে আই কন্টাক্ট করছে বা আপনার চোখে চোখ রাখছে তবে ধরে নিতে পারেন যে সে আপনাকে রিসিভ করছে বা আপনার প্রতি মনযোগ দিচ্ছে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: শিশুটির অনুভূতিগুলোকে চিহ্নিত করুন।
মনে করুন, আপনার শিশুটি কোনো একটা খাবারের জন্যে হাত বাড়িয়েছে। তখন তাকে প্রশ্ন করুন, ক্ষুধা পেয়েছে? অথবা সে পানির গ্লাসের দিকে এগিয়েছে বা কোনো কিছু খেয়ে পানির বোতলের দিকে তাকিয়েছে, তখন তাকে জিজ্ঞেস করুন, পানি খাবে? অথবা সে খেলতে গিয়ে খুশি হয়েছে, তখন বলতে পারেন- হ্যাপি?
এসময় আপনি হাতে তালি দিয়ে নিজের চোখে খুশির ঝলক এনে তাকে বলতে পারেন, হ্যাপি? অর্থাৎ তার অনুভূতিকে আপনি মডেলিং করুন। এটি যতদূর পারেন ন্যাচারালি করবেন। শিশুটির সাথে যতক্ষণ সময় কাটাবেন, ততক্ষণ তার সমুদয় কার্যক্রমের সময়কার অনুভূতিগুলোকে চিহ্নিত করে আপনি সেগুলোর মডেলিং করতে পারেন। এতে একসময় শিশুটি তার বিভিন্ন অনুভূতিকে শব্দ দিয়েই চিনতে পারবে।
তৃতীয় পদ্ধতি: ধরে নিন যে সে পারে বা পারবে।
বাবা, মা, টিচার, থেরাপিস্ট বা কেয়ারগিভারদের জন্যে এটি একটি সহজ মাধ্যম। আপনারা এমন একটা ভাব নিবেন যেন শিশুটি সব পারে। তার সাথে সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন এবং তাকে বিভিন্ন ইনস্ট্রাকশন দিন। যেমন, পানি খাও, পুতুলটি দাও, ভাত খাও, জামা পর ইত্যাদি। তার সকল কার্যক্রমের ভেতর তাকে এরকম বিভিন্ন কথা বলতে থাকুন এবং আপনারা এমন একটা ভাব নিয়ে বলবেন যেন সে এসব পারে। অটিস্টিক বা স্বাভাবিক, সকল শিশুই যখন দেখে যে তার সাথে ভিন্ন সুরে কথা বলা হচ্ছে তখন তারা তা খুব দ্রুত পিক করে এবং সে সময়গুলোতে তাদের লার্নিং স্পিড বেড়ে যায়।
চতুর্থ পদ্ধতি: সহায়ক বস্তু বা পরিবেশ বুঝে ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলিং।
ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলিং একটি কার্যকরী পদ্ধতি। এ ধরণের শিশুরা অনেক সময়েই বুঝেনা বা জানেনা পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন শব্দটা ব্যবহার করা উচিত। তাই তাকে সাহায্য করার জন্যে এ পদ্ধতিটি একটি উপযোগী মাধ্যম। এতে শিশুটি সংশ্লিষ্ট পরিবেশ বা পরিস্থিতি মোতাবেক সঠিক শব্দ বা বাক্যটি শিখবে। ধরুন শিশুটি খাবারের টেবিলে বসে পানি খাবার জন্যে হাত বাড়িয়েছে, তখন তার ভাষ্যানুযায়ী বাক্যটি যা হতে পারে সেটি বলুন। এ ক্ষেত্রে বাক্যটি হতে পারে, আমাকে পানি দাও। এ কথাটি ওর হয়ে আপনি বলে দিন। এতে সে ওই সময়ে তার যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শব্দ বা বাক্যটি শিখে নেবার প্রয়াস পাবে।
পঞ্চম পদ্ধতি: টোটাল কমিউনিকেশন এর ব্যাবহার।
Aided communication এবং Unaided communication উভয় ধরণের মাধ্যমের সহায়তা নিয়ে শিশুটির সাথে কমিউনিকেট করার চেস্টা করুন। Aided communication বলতে শারীরিক ভাষা ব্যতীত আর যে যে পদ্ধতি দিয়ে কমিউনিকেট করা যায় সেগুলো; অর্থাৎ বস্তুর ছবি, মানুষের ছবি বা কোনো বস্তু বা খেলনা ইত্যাদি। Unaided communication বলতে বোঝায় শারীরিক ভঙ্গি, মুখভঙ্গি, বা সাইন ল্যাংগুয়েজ ইত্যাদি।
এই উভয় পদ্ধতির ব্যবহার শিশুটির অডিও ভিজ্যুয়াল সেন্সরিসমূহে উদ্দীপনা জাগাতে সহায়ক হবে এবং ফলশ্রুতিতে শিশুটি এ দুটোর যে কোনোটি বা উভয়টি অনুসরণ করা শুরু করতে পারে।
আরও পড়ুন অটিজম: পরিবারের ওপর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
এগুলোর ব্যবহার ব্যতিরেকে তার সঙ্গে কমিউনিকেট করার অর্থ হচ্ছে আপনি তার সাথে সাধারণভাবে কথা বলে যাচ্ছেন- যেটি আরেকজন কথা বলতে পারা স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে মানানসই, কিন্তু অটিস্টিক ননভার্বাল শিশুর ক্ষেত্রে উপযোগী নয়। কাজেই শিশুটিকে কথা বলতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আপনারা Aided communication এবং Unaided communication উভয় ধরণের মাধ্যমকে ব্যবহার করুন। সৌজন্যে: স্কার্ফ (স্পেশাল চাইল্ড ইনফর্মেশন রিসোর্স ফোরাম)
[মূল লেখিকা বেক্কা আইসেনবার্গ (Becca Eisenberg), এমএস, সিসিসি-এসএলপি। তিনি একজন স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ রোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, লেখক এবং শিক্ষক]
অনুবাদ: বোরহান উদ্দিন [email protected]
নিউজওয়ান২৪.কম/একে
- অ্যাজমা চিকিৎসায় হোমিও সমাধান
- ছেলেদের যে অঙ্গগুলো পছন্দ মেয়েদের
- বিয়ের রাতে ‘সেক্স’, বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়!
- কুমারীত্ব...
- ঝাড়-ফুঁকে সাপ কামড়ানো রোগী ‘ভালো হয় যেভাবে’
- যৌনমিলন দীর্ঘস্থায়ী করার উপায়
- স্ত্রী হিসেবে মোটা মেয়েরাই ভালো!
- আকষ্মিক হার্ট অ্যাটাক! অন্যের সাহায্য ছাড়াই যেভাবে বাঁচাবেন নিজকে
- প্রয়োজনীয় যে সব ওষুধ...
- যৌনতা বিষয়ে যে জিনিসগুলো জেনে রাখা জরুরি
- অলস বাবুদের জন্য সুখবর: আসছে কাপড় ভাঁজ করার মেশিন!
- নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল
- আফ্রিকার ‘যমরাজ’ ব্লাক মাম্বা
- শারীরিক মিলনের পর করণীয় কিছু...
- টাইফয়েডের নতুন টিকায় ১০ জনের ৯ জনই বাঁচবে

জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস এর উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল
মুশফিকের শততম টেস্টে হামজার বিশেষ বার্তা
‘ফাঁদে পড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অনেক বাংলাদেশি’
ভারতকে হারিয়ে ফিফা থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ