ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রবাসী দুনিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৬  

ছবি: অন্তর্জাল

ছবি: অন্তর্জাল


যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।

২৬ বছর বয়সী ঐ মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে পুলিশ ধারাবাহিক অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি লিমনের সাবেক সহপাঠী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও সহিংসতা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিশামের বাসা থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাহিদা বৃষ্টির মিল পাওয়া গেছে, যা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। টাম্পা শহরের উত্তরে নিজ বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গেলে তিনি অস্ত্রসহ নিজেকে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ প্রশিক্ষিত পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় প্রতিরোধের পর একপর্যায়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

হিলসবোরো কাউন্টি আদালত ও শেরিফ দপ্তরের তথ্য বলছে, হিশাম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করলেও গ্রেপ্তারের সময় তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন না। আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরাও তার সহিংস আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর তথ্য গোপন, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পরিকল্পিত সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার এবং বৃষ্টির মৃত্যুর প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহত নাহিদা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, হিশামের বাসা থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের মিল পাওয়া গেছে। মরদেহ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

বর্তমানে হিলসবোরো কাউন্টির হেফাজতে থাকা হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও তার অতীত অপরাধের নথি বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজওয়ান২৪.কম/গাজী

আরও পড়ুন
প্রবাসী দুনিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত