ঢাকা, ১২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

জুসের সঙ্গে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস! এখনি ত্যাগ করুন!

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ২১ জুলাই ২০১৬   আপডেট: ১১:১৩, ২৫ জুলাই ২০১৬

অনেকেই আছেন পানির বদলে ফলের জুসের সঙ্গে ওষুধ সেবন করে থাকেন। আবার কেউ ঠিক অভ্যাস না- ঘটনাচক্রে পানি না থাকা বা এমনি আলসেমিতে হাতের কাছে থাকা ফলের জুস দিয়েই খেয়ে নেন ওষুধ (ট্যাবলেট বা তরল)। কিন্তু এই অভ্যাস বা কর্মটি এখনি ত্যাগ করুন। কারণ, এতে আপনার মারাত্মক ক্ষতি এমনকি জীবন নাশের মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের (আইএমএ) এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। একই কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্দেশিকায়ও। জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় নিউজওয়ান২৪.কম পাঠকদের জন্য এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি এখানে বাংলায় তুলে ধরা হলো- 

আইএমওর প্রতিবেদন মোতাবেক এর ফলে ওষুধের প্রভাব কমে যায় আবার কোনো কোনো বিশেষ ফলের জুসের ক্ষেত্রে তা ওষুধকে বিষেও রূপান্তর করতে পারে।

প্রতিবেদন মোতাবেক- হাইপার টেনশন বা হার্টের রোগীরা জুস সহযোগে ওষুধ পান করলে তা ওষুধের প্রভাব কমিয়ে দেয়। এজন্য ওষুধ শুধু নিরাপদ পানি সহযোগেই গ্রহণ করা উচিৎ।

কানাডার অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি অব বোস্টনের এক স্টাডির বরাতে আইএমএ মহাসচিব ডা. কেকে আগরওয়াল জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে আপেল বা লেবুজাতীয় ফলের জুস কিছু কিছু ওষুধের অবশোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে ওষুধের প্রভাব কমে যায়।

অপরদিকে, আঙ্গুর, সাইট্রাস, লাইম জাতীয় ফলের জুস কিছু কিছু ওষুধের অবশোষণ মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এসব ক্ষেত্রে মাত্রাগত সামান্য হেরফেরও ওষুধকে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য বিষতুল্য করে তুলতে পারে।

ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফডিএ) তাদের ভোক্তা স্বাস্থ্য তথ্য নেটওয়ার্কে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। এফডিএ`র এ সংক্রান্ত বুলেটিনে বলা হয়েছে- আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রে একধরনের প্রোটিন আছে যাদেরকে এনজাইম বলা হয়। এই এনজাইম রোগীদের খাওয়া স্টেডিং জাতীয় ওষুধকে সুবিধাজনকভাবে ভেঙ্গে দেয় (শরীরের উপকারী কোলেস্টেরল লেভেল কমে গেলে এ জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়)। কিন্তু আঙ্গুরজাতীয় ফলের জুস এনজাইমের কাজ করার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। এর ফলটা হয়- শরীরে অবশোষিত হতে থাকা ওষুধের মাত্র বেড়ে যায়। ফলে রোগীর অজ্ঞাতেই ওভারডোজের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ওভারডোজ কী করতে পারে জানেন তো? হ্যাঁ, প্রায় ক্ষেত্রেই এটা বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং আচমকাই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিয়ে দিতে পারে।

সুতরাং, সাবধান! খামোখা খমোখা বিপদকে দাওয়াত দিতে না চাইলে জুস দিয়ে ওষুধ গেলার বিলাসী অভ্যাস (বা কুঅভ্যাস) এখনি ত্যাগ করুন।

নিউজওয়ান২৪.কম/একে

 

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বাধিক পঠিত