ঢাকা, ০৪ মার্চ, ২০২৪
সর্বশেষ:

বিজয়ের ৫১তম বার্ষিকিতে কিছুটা ব্যতিক্রম আর বিনীত এক আহ্বান

এরিক মোর্শেদ

প্রকাশিত: ০১:৫১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২  

শেখ হাসিনা       -ফাইল ফটো

শেখ হাসিনা -ফাইল ফটো

১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে হয়েছিল বাংলাদেশের জন্ম। একাত্তরের প্রায় পুরোটা সময়ই বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। হরদম ঝড়-ঝঞ্ছা আর বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা এই জাতির জন্য ওই সময়টায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও অনুকূল ছিল না। মার্কিন জনগণের বিশাল অংশ আমাদের পক্ষে থাকলেও দেশটির তৎকালীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দৃঢ়ভাবে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন।

সামরিক-অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে মহাশক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদদের ওপর ভর করে পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। চালিয়েছে ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ নজিরবিহীন গণহত্যা। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে, প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী দেশে। তবে কিছু কুলাঙ্গার ছাড়া সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের অসমসাহস, রাজনৈতিক নেতাদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসেই অসে চূড়ান্ত সাফল্য। 

কিন্তু এরপর!?

নতুন দেশ, যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবে সব অবকাঠামো বিধ্বস্ত। নতুনের নতুন শুরু যাকে বলে। আশার আলো হিমালয়সম ব্যক্তিত্ব আর অসম সাহসী নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব। তিনি যুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানিদের পক্ষ নেওয়া মার্কিন-চীন-আরব বৈরিতার মধ্যেও এগিয়ে নিচ্ছিলেন তার স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। দ্রুত মিত্রবাহিনীর সেনাদের সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু  করে সামগ্রিক উন্নয়ন ও দেশের অবকাঠামো নির্মাণ, পাটশিল্প, চিনিশিল্পর মতো দেশীয় শিল্প বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা নেওয়ার সমান্তরালে কৃষিবান্ধব অর্থনীতিতে মনোযোগ দেন। স্বাধীন দেশে যখন মানবিক উন্নয়নের সুবাতাস বইছে তখন জাতির পিতাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে পেছনের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া হয়! সামরিক শাসন, দমন-পীড়ন, সীমাহীন দুর্নীতি... জন্মের কয়েক বছর পর থেকেই দেশটির শৈশব যেন দারিদ্র্য ও বঞ্চনার এক বিশাল দ্বীপ হয়ে ওঠে। 

কিন্তু  বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ সংগ্রাম করতে জানে। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম শেষে নতুন দিনে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। 

আজকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫১ বছর অতিক্রম করছে। আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর নিয়ে একটি লেখায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশটি বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি ঘটনা সমীক্ষায় (কেস স্টাডি) পরিণত হয়েছে, যা খুব কম অর্থনীতিবিদই অনুমান করেছিলেন। ...বাংলাদেশ যখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখন অনেকেই এটিকে একটি আকস্মিক সাফল্য হিসেবে খারিজ করেছিলেন। কিন্তু তখন থেকে প্রতি বছরই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ এবং আশ্চর্যজনকভাবে দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি ।’ 

কৌশিক বসু আরও বলেন,‘বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি এখন ভারতের কাছাকাছি এবং তাত্পর্যপূর্ণভাবে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির গড় আয়ু এখন ৭৪ বছর; যেখানে ভারতে ৭০ এবং পাকিস্তানে তা ৬৮। বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারকের একটি এবং দেশটিতে অন্য খাতগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বেশ সম্ভাবনাময়। এ শিল্পের ৩০০ কোম্পানি (এর মধ্যে কয়েকটি গবেষণাও পরিচালনা করে) এখন ৯৭ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে এবং বৈশ্বিকভাবে রফতানিও শুরু করছে।’

বর্তমানে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে আছে চীন। তৃতীয় স্থানে এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অপর অর্থনৈতিক শক্তি ভিয়েতনাম। আশির দশকের গোড়ার দিকে পণ্য রফতানিতে যুক্ত হয়ে তৈরি পোশাক সার্বিক রফতানিতে ৮১ শতাংশ দখল করে আছে। বর্তমানে মোট রফতানিতে পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত খাদ্য প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে আছে। 

স্মরণযোগ্য যে, স্বাধীনতা পরবর্তী আমাদের রফতানি খাত ছিল দুই-তিনটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্য, চা ও চামড়াজাত শিল্পই প্রধান রফতানি পণ্য ছিল। ওষুধ রফতানিতেও বাংলাদেশ ভালো করছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। বর্তমানে ১১৯টি দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রফতানি হয়। পাঁচ দশকে অর্থনীতি ও সামাজিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশের বেশি। 

করোনা মহামারীর মধ্যেও আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে ১৯৭২-৭৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৮৮ ডলার, যা ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩.০৮ শতাংশ। আজ আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে  যা ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

মতাদর্শগত বা রাজনৈতিক বিরোধীতা বা পরশ্রীকাতরতা বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ বিবেচনায় এই যাদুকরী সাফল্য এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ চাতুর্যপূর্ণ ও দৃঢ় নেতৃত্বের পরশে। মনে রাখা প্রয়োজন, তিনি ২০০৯ সালে যখন ফের ক্ষমতায় আসেন, তখন ২০০৭ সালের বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব কাটেনি। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশকে মনো-মস্তিষ্কে ধারণ করে শিক্ষা-অবকাঠামো-মানবসম্পদসহ সার্বিক উন্নয়নে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। 

আজ আমরা ২০২২ সাল অতিক্রম করছি। বিস্মরণপ্রবণ কিছু মানুষকে জানানো প্রয়োজন, গত দুই বছরের অধিককাল জুড়ে তাবৎ দুনিয়াকে করোনা মহামারির মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে দেখিয়েছে চূড়ান্ত সাফল্য। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। আদতে তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নামে হলেও এই যুদ্ধে যুক্ত রয়েছে বিশ্ব মোড়লদের প্রায় সবাই। 

ফলে এর কড়াল গ্রাস লেগেছে অর্থনীতিতেও। দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অস্বীকার করার জো নেই, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর ধাক্কা সহনীয় করতে এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন সরকার প্রধান। এ বছর ২০২২ সালে অবকাঠামো উন্নয়নের অবাক বিস্ময় পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে! সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মেট্রোরেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এই ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে। ১১ ডিসেম্বর পদ্মার ওপর দিয়ে চলার জন্য এসেছে নতুন রেল বগি-ইঞ্জিন। দেশে গত এক যুগে শত শত ব্রিজ হয়েছে, হাজার হাজার কিলো রাস্তা পাকা হয়েছে। এগুলো স্রেফ জনসভামঞ্চে দাঁড়িয়ে দেওয়া ফাঁকা রাজনৈতিক বুলি নয়- নিরেট এবং আনন্দময় বাস্তব।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা পাচ্ছে এখন সমগ্র বাঙালি জাতি। অথচ একসময়ে এই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ইস্যুটিকে নিয়েও ঠাট্টা মস্করা করা হয়েছে। ফ্রিতে সাবমেরিন কেবল না বসানোয় যাদের অমার্জনীয় ভুল সিদ্ধান্তে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাত পিছিয়ে গিয়েছিল কয়েক দশক- তারাই করতেন এর সমালোচনা! এখন সেই ‘মানি না মানি না, জানি না জানি না’ রব হতাশার তিমিরে স্তিমিত যদিও। 

আসুন, একটা নমুনা শুধু মেলাই, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল ফাইন্যান্সের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে গত এক দশক সময়ে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে আর্থিক সেবার আওতায় আনাটা মস্তবড় এক চ্যালেঞ্জ ছিল একটা সময়ে। উদ্ভাবনী ক্ষমতার চর্চা এবং ডিজিটালাইজেশনের সেই চ্যালেঞ্জে সগৌরবে জয়ী হয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় শস্য-শ্যামল বাংলাদেশ। দেশের বেশির ভাগ মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে থাকায় তাদের পক্ষে আর্থিক লেনদেন বেশ কঠিন ছিল আগে। কিন্তু ডিজিটাল ফাইন্যান্স তাদেরকে এখন সহজেই আর্থিক লেনদেনের উন্মুক্ত সুযোগ এনে দিয়েছে। বিকাশ-রকেট-নগদের মতো সেবাগুলো এক অভাবনীয় কাণ্ড করে ফেলেছে। 

নভেম্বর মাস ছিল আয়কর জমা দেওয়ার মাস, এর মেয়াদ আরও একমাস বাড়ানো হয়েছে। রাজস্ব অদায়ে আমাদের সাফল্য বেড়েছে ব্যাপক। সদ্য স্বাধীন দেশ বাংলাদেশের ১৯৭২-৭৩ সালে সর্বমোট রাজস্ব আয় হয় ১৬৬ কোটি টাকা। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীর মাথায় তথা ২০২০-২১ সালে সেই রাজস্ব অর্জিত হয় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা! যার অর্থ, রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ গুণ। দয়া করে এই লাইনটি আবার পড়ুন, রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ গুণ!!! আর্থিক সাফল্যের দিক দিয়ে অনেক বড় অর্জন অবশ্যই- এটি বাংলাদেশের মজবুত-সতেজ অর্থিক কাঠামোর একটি সূচকও বটে।  

এত অবাক করা সাফল্যের পরও কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্যে কম নিন্দা জোটে না! একদল লোক এ কাজে লেগেই আছে। এর কারণ হিসেবে কখনো কখনো মনে হয়, শেখ সাহেবের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতটা কাজ করে যান, অতটা প্রচারে সম্ভবত পটু তিনি নন। তাই তো বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, “বাংলাদেশের উন্নতি এবং উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বরাবরই একটা দুর্বলতা রয়েছে। প্রথম থেকেই বাংলাদেশকে দেখানো হতো অত্যন্ত দরিদ্র একটা দেশ। দেশের লোক খাবার পাচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যার ছবি। আশি নব্বই দশকের মধ্যেই আমরা আমাদের সামাজিক যে সমস্ত উন্নয়ন আছে সেই সূচকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখনো বাংলাদেশের আগের মতোই ভাবমূর্তি ছিল। কিন্তু গত দশ পনের বছরে যখন বাংলাদেশে ক্রমাগত জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে সেটা এখণ সবার নজরে এসেছে। এখন বাংলাদেশের ইমেজ হচ্ছে- এটা একটা ডেভলপমেন্ট মিরাকল। আরেকটা কথা সবসময় তারা বলতে থাকে এটা হচ্ছে একটা ডেভলপমেন্ট প্যারাডক্স বা উন্নয়নের একটা ধাঁধাঁ।” (সূত্র- বিবিসি) 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় নীতিকৌশল ও পদক্ষেপ প্রণয়নের মধ্য দিয়েই এসেছে এতসব সাফল্য। স্বাধীনতার এত বছর পর বাংলাদেশের উন্নয়নের উল্লম্ফন আর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব যেন সমানুপাতিক। বিজয় দিবসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষ যে নতুন ভোরের আলোয় হাসবে সেই হাসি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন থেকে শেখ হাসিনার সাফল্য অব্দি বিস্তৃত!

আমার মাঝেমধ্যে এই ভাবনা হয় যে যারা আজ শেখ হাসিনার দূরদর্শী সুদক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বকে খাটো করে এখনো দেখছেন, সেই তারাই বা তাদের অনুসারীরা একসময়ে আফসোফ করবেন স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সময় দেশ শাসন করা এবং সবচেয়ে সফল এই নেতার জন্য। অনগ্রসর আর সমস্যার পাহাড়ের তলে হরদম নাভিস্বাসে থাকা একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার এই কারিগরের প্রতি সমগ্র জাতির উল্লেখযোগ্য অংশের অবহেলা-অবজ্ঞা দেখে মনে পড়ে যায় মজরুহ সুলতানপুরির বিখ্যাত একটি কবিতার কয়েকটি লাইন-

হামারে বাদ আব মেহফিলমে
আফসানে বায়াঁ হোঙ্গে,
বাহারে হামকো ঢুঁডেঙ্গে-
না জানে হাম কাঁহা হোঙ্গে! 

যার ভাবার্থ হচ্ছে, একদিন প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে তোমরা আমার। সাবাশি দেয়ার জন্য খুঁজে ফিরবে আমায় হেথায় হোথায়- জানি না সেদিন আমি থাকবো কোথায়! অর্থাৎ যখন আমাকে মূল্যায়নের জন্য তোমরা স্মরণ করতে থাকবে তখন আমি তোমাদের থেকে অনেক দূরে থাকবো।

সুতরাং, এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন এবং সামনেও জাতিকে তার যা দেওয়ার আছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতায় অন্ধ না হয়ে সময় থাকতে আসুন যোগ্যজনের যোগ্যতার মূল্যায়ন করি। তার থেকে আরো উৎকৃষ্ট সেবাগ্রহণে তাকে উৎসাহিত করি, তার হাতকে মজবুত করি। প্রশংসা না করতে পারি অন্তত অহেতুক বিরোধিতা আর অসার নিন্দায় যেন মত্ত না হই। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান বিজয়ের এই ৫১ তম বার্ষিকীতে সবার কাছে কিছুটা ব্যতিক্রম হলেও এই বিনীত আহ্বান রাখছি। 

এরিক মোরশেদ

লেখক: এরিক মোরশেদ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, নিউজওয়ান২৪.কম

অসম্পাদিত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত