ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ:

সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে থানাহাজতে বাবা

রাজশাহী সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১:২২, ১৪ জুন ২০২১  

তিন বছর বয়সী শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এসেছিলেন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ওমর সিদ্দিক (৩৩) নামের এক বাবা। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সন্তান কোলে ঘরে ফিরতে পারেননি তিনি। আনসার সদস্যদের মারধরের অভিযোগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক। এ সময় ওমর সিদ্দিকের দুই সহকর্মী সেলিম রেজা (৩৩) ও সোহেল রানাকে (৩০) পুলিশে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দিনভর নগরীর রাজপাড়া থানা হাজতে রয়েছেন তারা। ওমর সিদ্দিক জেলার চারঘাট উপজেলার বরকতপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্য দুজনের বাড়ি একই উপজেলার ডাকরা এলাকায়। হাসপাতাল থেকে থানায় নেওয়ার সময় শিশু সন্তান ছিলো বাবার কোলেই। পরে থানাহাজতে নেওয়ার আগে স্বজনদের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় শিশুটিকে। 

এর আগে রোববার (১৩ জুন) সকালে ছেলের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালের বহির্হিভাগে গিয়েছিলেন ওমর সিদ্দিক। সেখানে অন্য এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

তবে ভুক্তভোগী ওমর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, তিনি আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলেননি। তার দুই সহকার্মীও তাদের গায়ে হাত তুলেননি। উল্টো তাদেরই হেনস্থা করেছেন আনসার সদস্যরা। 

তিনি জানান, ছেলের কানে চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে সকালে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগের এসেছিলেন। তার সহকর্মী সোহেল রানাও হাসপাতালের ৩৪ নম্বর কাউন্টারে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। ছেলের চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আনসার সদস্যরা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে তার গালে থাপ্পড়ও দেন আনসার সদস্যরা। ওই সময় কোলে থাকা শিশুসন্তান মাটিতে পড়ে যায়। 

এ সময় সহকর্মী সেলিম রেজা পড়ে যাওয়া শিশুকে কোলে তোলেন। তিনিও আনসার সদস্যদের এই কাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাদের আরেক সহকর্মী সোহেল রানা সঙ্গেই ছিলেন। পরে আনসার সদস্যরা তাদের তিনজনকেই ধরে পরিচালকের কাছে নিয়ে যান। পরিচালক তাদের পুলিশে সোপর্দ করার নির্দেশ দেন। 

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি রামেক হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার মধু মিয়া। তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, আনসার সদস্যরা তাকে জানিয়েছেন, ওষুধ কোম্পানির কর্মীরা তাদের গায়ে হাত তুলেছেন। গায়ের জামা ছিঁড়ে দিয়েছেন। কিন্তু কোম্পানির কর্মীরা পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তাই বিষয়টি দেখার জন্য পুলিশকে জানানো হয়।

তিনি আরো জানান, ওষুধ কোম্পানির কর্মীরা হাসপাতালে এসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলেন। এইভাবে ছবি তোলা ঠিক নয়। এ জন্য তিনি আনসার সদস্যদের বিষয়টির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ নিয়েই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

এদিকে, সকাল থেকেই থানা হাজতে আটকা ওই তিনজন। তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান ওসি।

নিউজওয়ান২৪/এসআর

স্বদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত