ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

শুরু হলো ‘হাতির ঝিলের ক্যানসার’ ধ্বংস যজ্ঞ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:১৬, ১৬ এপ্রিল ২০১৯  

দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি, এর পেছনের সংগঠনটির কর্তাব্যক্তিদের ক্ষমতার দম্ভ-বলয় যেন ভেংচি কাটছিল জনগণের স্বার্থ আর দেশের আইন-কানুনকে। তবে বিজয় সরণির র‌্যাংগস ভবনের মতো ‘হাতিরঝিলের ক্যানসার’ সেই বিজিএমইএ ভবনকে ভাঙার প্রাথমিক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কিন্তু পুরো ভবনটি কখন কীভাবে ভাঙা হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

আজ (মঙ্গলবার) সকালে ভবনটি ভাঙার দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিজিএমইএ ভবনে যান রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের নিয়ে বিজিএমইএ ভবনে এসেছেন তারা। ভবনটিতে এখনো দু–একটি অফিস রয়েছে। তাদের মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য লোক ডাকা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজার-সংলগ্ন হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবনের সামনে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান সাংবাদিকদের আরো বলেন, হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজে সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছি। ভবন ভাঙার জন্য আমাদের বুলডোজারসহ অন্যান্য গাড়ি সামনে প্রস্তুত রয়েছে। এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিস আছে। ব্যাংকের ভল্টে টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল তারা সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। আমাদের কাছ থেকে তারা দুই ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছে। আমরা তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় এবং সুযোগ দিয়েছি।

সম্পূর্ণ ভবনটি আজই ভেঙে ফেলা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, এই যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা ভবন ভাঙার কার্যক্রমেরই অংশ।

এর আগে গতকাল (সোমবার) রাতে রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ভবন ভেঙে ফেলা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএ’র বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। 

আপিল খারিজের ওই রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় তারা। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।

কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ’র বর্তমান ভবনটি গড়ে উঠেছে দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা নিয়ে। তবে বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনের ওপরের দুই তলা নিয়ে বিলাসবহুল ‘অ্যাপারেল ক্লাব’ করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্টুরেন্ট ও সভাকক্ষ আছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।
নিউজওয়ান২৪.কম/এমএন

আইন আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত