ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ফেব্রুয়ারিতেই বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দিয়েছিলো ছাত্রসমাজ: প্রধানমন্ত্রী অর্থাভাবে বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শাসক পিতার হাতে জিম্মি প্রিন্সেস লতিফা

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

প্রিন্সেস লতিফা

প্রিন্সেস লতিফা


প্রিন্সেস লতিফা। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মেয়ে তিনি। ২০১৮ সাল থেকে লতিফাকে আটকে রেখেছেন তার পিতা। সম্প্রতি এক ভিডিওতে প্রিন্সেস স্বয়ং এই কথা জানিয়েছেন।

লতিফার অভিযোগ, ২০১৮ সালে দুবাই থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার পর থেকে তার বাবা তাকে জিম্মি করে রেখেছেন। সম্প্রতি ধারণকৃত কিছু ভিডিওতে তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গোপনে রেকর্ড করা ওই ফুটেজগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর প্রিন্সেস লতিফার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। পরে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয় দুবাইয়ের শাসকের মেয়ের বিষয়ে আমিরাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেয়।

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম ও তার কন্যা লতিফা

প্রিন্সেস লতিফার ভিডিও পর্যালোচনা শেষে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন এ সংক্রান্ত একটি তদন্তের সূচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন একজন মুখপাত্র। বিবিসি জানাচ্ছে, প্রিন্সেস লতিফা কমান্ডোদের হাতে ধরা পড়ে দুবাই আসার এক বছর পর গোপনে পাওয়া একটি ফোনে গত কয়েক মাস ধরে ভিডিওগুলো রেকর্ড করেন। একটি বাথরুমের ভেতর তিনি এগুলো রেকর্ড করেছিলেন, কেননা সেটিই ছিল একমাত্র কক্ষ, যার দরজা তিনি বন্ধ করতে পারতেন।

ভিডিওগুলোতে লতিফা জানিয়েছেন, কোনো চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা ছাড়াই নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাকে একটি ভিলায় আটকে রাখা হয়েছে, ভিলাটির জানালা ও দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সেখানে পাহারা দিচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের অন্যতম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি চমৎকার একটি শহর নির্মাণে অসাধারণ সফলতা দেখালেও শহরটিতে ভিন্নমতের কোনো স্থান নেই। 

মাকতুমের মেয়ে লতিফা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধুদের সহযোগিতায় দুবাই থেকে পালিয়ে নতুন জীবন শুরুর চেষ্টা করেছিলেন।

সেবার দুবাই থেকে পালানোর কয়েকদিন পরই ভারত মহাসাগরের একটি নৌকায় কমান্ডোদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। কমান্ডোরা তাকে উড়িয়ে দুবাই নিয়ে যায়, এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।

লতিফার বাবা বলছেন, মেয়ের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই তিনি এমনটা করেছেন। দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে বলেছিল, প্রিন্সেস লতিফা পরিবারের কাছে নিরাপদ আছেন।

তবে দুবাইয়ের এ শাসককে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেয়ে লতিফা এবং স্ত্রী হায়া বিনতে আল হুসেইনকে নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। লতিফার সৎমা হায়া ২০১৯ সালে নিজের দুই সন্তান নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে যান।

নিউজওয়ান২৪.কম/আরএডব্লিউ

আরও পড়ুন
বিশ্ব সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত