ঢাকা, ২৩ জুন, ২০২১
সর্বশেষ:

‘মানবিক কারণে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়োগ দিয়েছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৮ মে ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, মানবিক কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু এই নিয়োগ না, আরো নিয়োগ দিতে হবে। না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম ব্যাহত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মুখ থুবড়ে পড়বে।

আজ (শনিবার) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।

মানবিক কারণে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সদ্য সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘যারা ডিজার্ভ করে তারাই নিয়োগ পেয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই অনার্স-মাস্টার্স পাস এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল৷ তাই আমি মানবিক কারণে ছাত্রলীগকে চাকরি দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, তাদের (ছাত্রলীগের) ক্রমাগত দাবি এবং চাপের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বোধ করেছি যে, তাদের চাকরি পাওয়া উচিত। তাই তাদের চাকরি দিয়েছি। এখানে অন্য কেউ জড়িত নয়।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কেন নিয়োগ দেওয়া হলো? জবাবে তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের অনুযায়ী উপাচার্যের ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছি। এখন যদি সরকার থেকে এ ধরনের আদেশ আসে তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশই বাতিল করা উচিত, বলেন তিনি।

এই নিয়োগ টিকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ না টেকার আর কিছু নেই। এর আগেও এডহক নিয়োগ হয়েছে এবং সেগুলো টিকে আছে।

‘আমি মনে করি এটা যৌক্তিক তাই আমি নিজ দায়িত্বে একটা দিয়েছি’, মন্তব্য করেন অধ্যাপক সোবহান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরও সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউজিসি যে তদন্ত কমিটি করেছে আমরা সেটা তদন্তে এখানে এসেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে চাই। এর জন্য আমরা সবার সঙ্গে কথা বলেছি, সমস্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আমরা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেব।

এর আগে গত ৬ মে (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ কার্যদিবসে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেন।

এই নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে একই দিন সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ক্যাম্পাসে এসে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালামসহ নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করেন।

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত