ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০১৯
সর্বশেষ:
ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ খুবই জরুরি

বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ এমপিকে বেঁধে রাখলো গ্রামবাসী!

কট-বোল্ড রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ২২ জুলাই ২০১৫   আপডেট: ১১:০৯, ১৮ মে ২০১৬

সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি আদায়ে ক্ষুব্ধ মানুষজন অনেক কিছুই করে। যেমন- রাস্তা অবরোধ, ঘেরাও বা ভাংচুর, গাড়ি ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ঘেরাও প্রভৃতি। কিন্তু তাই বলে একজন সাংসদকে (এমএলএ) ঠিক সিঁদকাটা চোর-ছ্যাচ্চোরের মতো বেঁধে রাখা!

বিদ্যুতের উপর্যুপরি লোডশেডিংয়ে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত এমনধারার বেপরোয়া কাণ্ডই করে ফেলেছে উত্তর প্রদেশে  চান্দৌলির মুগলসরাই এলাকার লোকজন। তারা ওই আসন থেকে নির্বাচিত সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) বিধায়ক বাব্বন সিং চৌহান এবং তার সঙ্গী স্থানীয় নেতা কায়ামউদ্দিনকে ধরে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধেই রাখলো শেষ পর্যন্ত!

ঈদ উপলক্ষ্যে ওই বিধায়ক এলাকায় গিয়েছিলেন জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে।

প্রসঙ্গত ভারতের উত্তর প্রদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কট চরম রূপ নিয়েছে বর্তমানে। বিদ্যুৎসঙ্কট এখন সেখানে বড় সমস্যার নাম। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যের জনগণ এমনিতেই জনপ্রতিনিধিদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে আছে। চলমান তাপপ্রবাহজনিত অসহ্য গরমে সাধারণের মনমেজাজ হরদম খাপ্পা। জনগণকে ঈধ শুভেচ্ছা জানাতে এসছিলেন এমপি।

এমনই আবহে চলে আসে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। রাজ্যসভা সদস্য বাব্বন হয়তো ভেবেছিলেন- উৎসবের আবেগে সবাই অন্য মুডে আছে। কিন্তু জনতার মতিগতি বোঝা ভার! 

নেতারা ঈদ শুভেচ্ছার মুডে থাকলেও জনতা তার ধারকাছ দিয়ে যায়নি। তারা বিধায়ক ও তার স্থানীয় নেতাকে ধরে রীতিমতো বেঁধে ফেলে। এসময় জনতা বিদ্যুতের দাবিতে উত্তেজক নানান স্লোগানও দিতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত কিছুদিন ধরেই এলাকাবাসী তাদের নির্বাচিত বিধায়কের কাছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।

এদিকে, বিধায়ককে আটকের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে পুলিশ ছুট লাগায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিকেও পাত্তা দেয়নি গ্রামবাসী। ফলে বিধায়ক বাব্বন আর তার সঙ্গী কায়ামউদ্দিনকে দড়ির বাঁধনসহ বসেই থাকতে হয়। পরে অবশ্য বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাসে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অনেকের চোখ কপালে তুলে দেওয়া এ ঘটনা ঘটে ঈদের পরদিন অর্থাৎ গত রোববার। 

এদিকে, বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে উত্তর প্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড গত ২১ জুলাই রাজ্য জুড়ে অভিযান পরিচালনা করে। এই রাজ্যটিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থার পেছনে ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ চুরিকে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমএস

আরও পড়ুন
অর্থ-কড়ি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত