ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সর্বশেষ:
আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মেলেনি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৪:২০, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

উদ্ধারের আগে এভাবেই পড়েছিল রুম্পার মরদেহ (বামে) ও স্মিত হাসিমুখে এক অনুষ্ঠানে রুম্পা (ডানে)    -ফাইল ফটো

উদ্ধারের আগে এভাবেই পড়েছিল রুম্পার মরদেহ (বামে) ও স্মিত হাসিমুখে এক অনুষ্ঠানে রুম্পা (ডানে) -ফাইল ফটো

রুম্পাকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মরদেহ গত ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোড থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন থেকে ধারণা করা হচ্ছে হয় আশপাশের কোনো ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন অথবা তাকে ওপর থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তখন প্রশ্ন ওঠে মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না। সে সূত্রে ‘হত্যা’ না ‘আত্মহত্যা’ এবং ধর্ষণ হয়েছিল কি না এসব জানার জন্য রুম্পার মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করেছিল তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণাদি এখনো মেলেনি। তবে তিনি আত্মহত্যাও করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আজ (শনিবার) ফিরেনসিকের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল রিপোর্ট সূত্রে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, রুম্পা ধর্ষণের শিকার হননি।

এসময় তিনি বলেন, ‘নিহত রুম্পার ময়নাতদন্তের তিনটি রিপোর্টের মধ্যে একটি হাতে পেয়েছি। সেটি হলো- ইক্রোবায়োলজিক্যাল রিপোর্ট। এই রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। আরও দু’টি রিপোর্ট বাকি আছে।’
এ প্রসঙ্গে ডা. সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘শুধু ময়নাতদন্ত করেই হত্যা না আত্মহত্যা, সেটি নির্ণয় করা যাবে না। এর জন্য পারিপার্শ্বিক অন্য অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল (রবিবার) আরও দুটি প্রতিবেদনের রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সব পেলে তিনটা মিলে একটা প্রতিবেদন তৈরি করে আমরা পুলিশের কাছে জমা দেব।’ 

ময়মনসিংহের অধিবাসী রুম্পা পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন। গত ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায় পরীক্ষার জন্য। মরদেহের সুরতহালে পুলিশ গুরুতর কিছু ইনজুরি পায়। প্রথমদিকে তার পরচয় সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরদিন ৫ ডিসেম্বর তদন্তে রুম্পার পরিচয় জানা যায়। তার বাবা রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢামেক হাসপাতালের মর্গে। 

রুম্পার ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’কে হত্যাকণ্ড দাবি করে এর বিচার দাবিতে কয়েক দফা বিক্ষোভ করেছে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশের আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এরই মধ্যে রুম্পার কথিত প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডেও নেয়া হয়। 

তদন্তের ধারাহিকতায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, সম্পর্কের ইতি টানতে চেয়েছিলেন প্রেমিক সৈকত। এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ফয়সালায় সৈকত তার সহযোগীদের নিয়ে রুম্পাকে সিদ্ধেশ্বরীর সেই বাসার ছাদে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে ওই ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। কিন্তু পরে জানা যায়, সৈকত ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় ছিলেন-ই না। তবে এই বিষয়টি তার মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং রেকর্ড থেকে ধারণা করা হয় বলে জানা গেছে। মোট কথা পুরো বিষয়টি এখনো অস্পষ্টতার ধোঁয়াসায় ঘুরপাক খাচ্ছে যার সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে তদন্ত দল। 
নিউজওয়ান২৪.কম/এআই

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত