ঢাকা, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

প্রতিশোধ নিতে ভাড়াটিয়া ও দারোয়ান হত্যা করে সেনাকর্মকর্তার মাকে!

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:১৪, ৬ আগস্ট ২০১৬   আপডেট: ১০:১২, ২২ আগস্ট ২০১৬

র‌্যাবের হাতে আটক গ্রেফতার ভাড়াটিয়া লাবণ্য ও দারোয়ান রবি

র‌্যাবের হাতে আটক গ্রেফতার ভাড়াটিয়া লাবণ্য ও দারোয়ান রবি

ঢাকা: গত ৪জুন রাজধানীর উত্তরায় সেনাকর্মকর্তার মাকে গলা কেটে হত্যাকারী দুর্বত্তদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ (শনিবার) সকালে পাঠানো ক্ষুদেবার্তায় এলিট ফোর্স র‌্যাব জানায়, সেবাহিনীর কর্মকর্তা কর্নেল খালেদ বিন ইউসুফের বাসায় তার মাকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যাকারী দুর্বৃত্তদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

যোগাযোগ করলে র‌্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ নিউজওয়ান২৪.কমকে জানান, মনোয়ারা হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন, দারোয়ান গোলাম নবী ওরফে আবু ওরফে রবি ও ভাড়াটিয়া লায়লা আক্তার লাবণ্য।

খুনীরা প্রতিশোধ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ হাতানোর উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানান তিনি।

২ জুন শনিবার গভীর রাতে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের নিজ বাড়ি থেকে মনোয়ারা সুলতানার (৬৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পঞ্চম তলা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। তবে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে একজন কাজের বুয়া থাকত। হত্যাকাণ্ডের ৩-৪ দিন আগে থেকে বুয়া অনুপস্থিত ছিলেন। বুয়ার অনুপস্থিতিতে ওই বিল্ডিংয়ের এক ভাড়াটিয়া মনোয়ারাকে খাবার দিত।

নিহত মনোয়ারা মৃত ডা. আবু মোহাম্মদ ইউসুফের স্ত্রী।তার ৩ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মেজর (অব.) ইকবাল ইবনে ইউসুফ অস্ট্রেলিয়ায় ও ছোট ছেলে আরমান ইবনে ইউসুফ আমেরিকায় থাকেন। মেজ ছেলে কর্নেল খালেদ বিন ইউসুফ চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত।

মনোয়ারার ভাই মির্জা আজম বেগ জানান, তার বোন দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় অনেক স্বর্ণালঙ্কার কিনেছিলেন। একটি মসজিদ বানানোর ইচ্ছা ছিল তার। এর ব্যয় নির্বাহের জন্য ওই স্বর্ণগুলো ব্যবহারের ইচ্ছা ছিল। কয়েক বছর ধরে তিনি আরো স্বর্ণ জমাচ্ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ জমিয়েছেন তিনি।

র‌্যাব জানায়, খুর্নীরা হত্যার পর স্বর্ণের জন্য বাসার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে- এমন আলামত পাওয়া গেছে। তবে খুনীরা কোনো স্বর্ণ পায়নি। কারণ, সেগুলো ব্যাংকের ভল্টে রাখা ছিল।

প্রসঙ্গত, মরদেহের সুরতহালে প্রতীয়মান হয়, মনোয়ারাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মৃত্যুর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে ঘাতকরা মরদেহ সোফায় বসিয়ে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। উত্তরা (পশ্চিম) থানার উপপরিদর্শক মামুন মিয়া জানান, নিহতের গলা কাটা ছিল। এ ছাড়া থুতনি ও গালে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাসার ড্রয়িং রুমে সোফায় হেলানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

নিউজওয়ান২৪.কম/একে

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত