ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সর্বশেষ:
আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

পোস্টার, লিফলেট ও মেমোতে ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রসঙ্গে..

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২৪ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি থেকে সংগৃহীত।

ছবি- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি থেকে সংগৃহীত।

পোস্টার, লিফলেট, মেমো এবং ভিজিটিং কার্ডে- বাংলা বা আরবি ভাষায় ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা প্রসঙ্গে..

সচেতনতা এবং কল্যাণের কথা বিবেচনা করে লেখাটি সবার জায়গা থেকে প্রচারের জন্য অনুরোধ করা হলো-

শুরুতেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্মানিত মেয়র এবং কমিশনার প্রার্থীদের জানাচ্ছি নিজ এবং সারাদেশের পক্ষ থেকে সালাম এবং সাপ্তাহিক ঈদ পবিত্র জুমাবারের শুভেচ্ছা!

হে আল্লাহ! সৎ সাহসী, যোগ্য এবং ঈমানদার প্রার্থীকে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিকট আমার একটি আকুল আবেদন- আজ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর গত সপ্তাহের শুক্রবারে (১৭ জানুয়ারি) মতো এ সপ্তাহেও নিশ্চয়ই যে যার প্রচারণায় নেমে পড়বেন।

ছবি- সঙগৃহীতছবি- সংগৃহীত

হাতে থাকবে রঙবে-রঙের পোস্টার ও লিফলেট। যেগুলোর উপরে বা শুরুতেই লেখা থাকবে ‘বিসমিল্লা’, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’, ‘আল্লাহু’ বা ‘আল্লাহু আকবার।’

ছবি- সংগৃহীত

যা গত সপ্তাহের প্রচারণায়ও দেখা গেছে।

সেই প্রচারণায় অসংখ্য পোস্টার ও লিফলেট মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যেগুলোর ওপর দিযে বিভিন্ন মানুষ পাড়িয়ে পাড়িয়ে চলাফেরা করছে। আমি বিষয়টি দেখে একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে আর ঠিক থাকতে পারিনি। দুঃখ ভরা মন নিয়ে অনেক বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে আলোচনাও করেছি।

আলোচনায় কোনো লাভ হয়নি; কেউ সাড়া দেয়নি! উপায়ন্তর না দেখে আমি, আমার ছেলে আব্দুল্লাহ এবং ভাগিনা সাহিল মিলে আল্লাহর নাম ও কালামের মযাদা রক্ষার্থে অনেক পোস্টার ও লিফলেট কুরিয়েছি। কুড়াতে গিয়ে চলাচলরত অনেক মানুষের লাথিও খেতে হয়েছে। তবে কেউ ইচ্ছে করে দেয়নি; লেগে গেছে...!

ছবি- সংগৃহীত

যা-ই হোক। লাথি-গুতা মানুষেরই জন্য...

প্রচারণার সময় আমাদের ‘অসাবধানতাবশত’ বা বেখেয়ালে আল্লাহর নাম ও তাঁর কালামযুক্ত পোস্টার, লিফলেটগুলো যেকোনো জায়গাতেই পড়ে থাকে বা পড়ে যায়। যেমন: রাস্তা ঘাট নর্দমা ড্রেন ইত্যাদিতে। এগুলো কি কোরানের আয়াত নয়? এটা কি কোরানের অবমাননার শামিল নয় কি?

বি:দ্র: তবে হাতে গোনা দু’একজন সচেতন নাগরিককে দেখা গেছে এর বিপরীত।  ছবি-সংগৃহীত

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, দয়া করে একটু চিন্তা করুন। যে নাম বা কালাম আমরা অতি ভক্তিসহকারে স্হান দিলাম শুরুতে বা সবার উপড়ে আর সেটিই যদি চলে যায় পায়ের তলে...হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে মাফ করুন। আমিন।

আসলে বর্তমানে এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার যে, আমাদের অজ্ঞতার কারণে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং আল্লাহর নামের অপব্যবহার বেড়ে চলছে।

ছবি- সংগৃহীত

রাজনৈতিক পোস্টার থেকে শুরু করে শরীয়ত-নিষিদ্ধ পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও লিফলেট ও ভিজিটিং কার্ডে ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আল্লাহু’, ‘আল্লাহু আকবার’ এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অথচ ‘বিসমিল্লাহ’ পবিত্র কোরআনের আয়াত বা অংশবিশেষ হওয়ার ব্যাপারে কারোই দ্বিমত নেই। পবিত্র কোরআন শুরুই করা হয়েছে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে। কোরআনের একটি সূরা ছাড়া (সূরা তাওবা) সব সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ রয়েছে।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম- এ বাক্যটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছেন হজরত সুলায়মান (আ.)। সাবা নগরীর রাণী বিলকিসের কাছে লেখা চিঠিতে তিনি এ বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা নামলের ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে সে চিঠির বিবরণ উল্লেখ রয়েছে।

ছবি- সংগৃহীত

সুতরাং এর মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। এর হুকুম কোরআন মজীদের অন্যান্য আয়াতের মতোই। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখিত কাগজ কোনো অসম্মানের স্থানে ব্যবহার করাও জায়েয নয়।

সুতরাং পোস্টার ও দোকানের মেমো, ভিজিটিং কার্ড–যা নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রয়োজন না থাকার দরুণ পথে-ঘাটে ও নর্দমায় পড়ে থাকার আশঙ্কা থাকে; এমনকি অনেক সময় পদপিষ্ট হয়। এসব ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। চাই তা আরবীতে লেখা হোক বা বাংলা উচ্চারণে।

ছবি- সংগৃহীত

শেষে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ সিটিসহ সারাদেশের মানুষের কাছে আকুল আবেদন। বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবুন!

বিশেষ করে দেশের প্রতিটি মসজিদের সম্মানিত খতিব সাহেবরা যদি জুমার খুতবায় বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা করেন। তাহলে কতোই না ভালো হয়। শুধু দেশের মানুষগুলোকে একটু সচেতনার মাধ্যমে গুনাহ থেকে বাঁচানো।

আসুন আমরা দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। সর্বোপরি নিজের কল্যাণার্থে বড়কে সম্মান করি এবং ছোটকে স্নেহ করি।

[এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মন্তব্য, বিশ্লেষণ সবকিছুই লেখকের একান্ত নিজস্ব মতের প্রকাশক]

(লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে)
গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ : সহ-সম্পাদক, ডেইলি বাংলাদেশ.কম, (ধর্ম ও ফিচার বিভাগ)। 

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

অসম্পাদিত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত