ঢাকা, ২০ জুন, ২০২১
সর্বশেষ:

পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৩৬, উদ্ধার ১৩

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১৫, ৭ মার্চ ২০২০  

নৌকাডুবির পর বরসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে-ছবি: সংগৃহীত

নৌকাডুবির পর বরসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে-ছবি: সংগৃহীত


রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বিয়ে বাড়ির দু’টি নৌকা ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৩৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার বিপরীতে মধ্যপদ্মায় এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নৌকাডুবির পর বরসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

অন্যান্যদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিয়ের ফিরনি অনুষ্ঠান শেষে বরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

উদ্ধার হওয়া এক যুবক জানান, দু’টি নৌকা ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।  

জানা গেছে, বরের নাম রুমন আলী (২৬)। তার বাড়ি পবা উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামে। বাবার নাম ইনসার আলী। আর কনের নাম সুইটি খাতুন (২০)। তার বাড়ি রাজশাহী শহর সংলগ্ন পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামে। বাবার নাম শাহীন আলী।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রুমন-সুইটির বিয়ে হয়। দুপুরের দিকে সুইটির আত্মীয়-স্বজনরা বর-কনেকে আনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে মাঝপদ্মায় নৌকা ডুবে যায়।

ঘটনার পর বর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। এ ছাড়া আরো ১১  জনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানা গেছে।

তারা হলেন- নৌকা চালক খাদিমুল ইসলাম (২৩), বৃষ্টি খাতুন (২২), রানা (১৭), মিঠু (২২), সুমন আলী (২৮) ও তার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২২) এবং মেয়ে সুমনা আক্তার (৬)। 

বৃষ্টি খাতুন জীবিত উদ্ধার হলেও তার মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬) মারা গেছে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মায়ের সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে বৃষ্টির স্বামী রতন নিখোঁজ রয়েছেন। আর মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে উঠেছিলেন সুমন-নাসরিন দম্পতি।

নৌকাডুবির পর আশপাশের অসংখ্য মানুষ এবং স্বজনরা শ্রীরামপুর এলাকায় নদীপাড়ে ভিড় করেছেন। রয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। রাতেই পদ্মাপাড়ে যান সিটি মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি সদস্যরাও স্পিডবোট নিয়ে নদীতে ভাসমান মানুষ খুঁজছে। নদীপাড়ে প্রস্তুত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স।

উদ্ধার হওয়ার পর রানা নামের এক যুবক জানান, দু’টি নৌকা পাশাপাশি আসছিলো। প্রথমে একটি নৌকার তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। এতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় এই নৌকার যাত্রীদের অপর আরেকটি নৌকায় নেয়া হচ্ছিল। তখন অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে এই নৌকাটিও ডুবে যায়। এক শিশুর মরদেহসহ ১৩ জন উদ্ধার হলেও এখনো ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করছেন রানা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, রাত ৭টা ৯ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে তাদের নৌকাডুবির বিষয়ে জানানো হয়। এক মিনিটের মধ্যে তারা বেরিয়ে পড়েন।

তবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তারা কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি। যারা উদ্ধার হয়েছেন তারা কেউ সাঁতরে উঠেছেন আবার কয়েকজনকে বালু বহন করা ট্রলার নিয়ে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসেরও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। নিখোঁজ কতজন রয়েছেন সেটি তারা নিশ্চিত নন বলে জানান আব্দুর রউফ।

নিউজওয়ান২৪.কম/এমজেড

স্বদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত