ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

নিখোঁজের পরদিন কুরিয়ারে আসে ল্যাপটপ, অজ্ঞাত হিসেবে দাফন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:০৯, ৭ এপ্রিল ২০১৯  

ইকবাল মাহমুদ      -ফাইল ফটো

ইকবাল মাহমুদ -ফাইল ফটো

গত ২ এপ্রিল মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হয় সিএ ফার্মের তরুণ ইন্টার্ন  ইকবাল মাহমুদের লাশ। নাম পরিচয়হীন লাশ হিসেবে আঞ্জুমান-এ মফিদুলের মাধ্যমে সেটি কবরও দেয়া হয়। অপরদিকে, নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তার ব্যবহৃত ল্যাপটপটি একটি কুরিয়ারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে তার বোন সাদিয়া ইশরাতের বাসায় কে বা কারা পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনার চারদিন পর শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন শিবচর থানায় গিয়ে সেখানে রক্ষিত তার কাপড়-চোপড় ও ছবি দেখে সনাক্ত করেন যে, অজ্ঞাত পরিচয় লাশটি তাদের-ই স্বজন ইকবাল মাহমুদের। পুরো ঘটনা যেন কোন রহস্য গল্পের পটভূমি।

মাত্র এক মাস আগে ইকবালের বাবা শাহ মোহাম্মদ ইমরান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

পাঁচ ভাই-বোনের একমাত্র ভাই ইকবাল রাজধানীর তেজগাঁও থানার পাশের বিসমিল্লাহ নামের একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। 

ইকবালের স্বজন এনায়েতুর রহিম জানান, চট্টগ্রাম ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে লেখাপড়া করা ইকবাল মাহমুদ ঢাকার পান্থপথে ইউটিসি ভবনে মসিহ মুহিত হক অ্যান্ড কোম্পানি নামের চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট ফার্মে ইন্টার্নি করছিলেন। গত ৩১ মার্চ চট্টগ্রামে অবস্থানরত মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় ইকবালের। এরপর থেকে তার সেল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

কোথাও খোঁজ মিলছিল না ইকবাল মাহমুদের। শেষে তার বোন সাদিয়া ইসরাত বুধবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর মাহমুদ যে এলাকায় বসবাস করতেন সেই তেজগাঁও থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু থানা কোনো অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেয় তাদের। পরদিন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে দিয়ে থানায় ফোন করানোরপর ওসি জিডি নেন।  

শিবচর থানা পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মাহমুদের লাশ উদ্ধারের পর নিয়ম মোতাবেক দেশের প্রতিটি থানায় ওয়ারলেসে মেসেজ পাঠানো হয়। তবে সেই মেসেজ পাননি বলে দাবি করেছেন তেজগাঁও থানা ওসি।

শিবচর থানা ওসি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, গত ২ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া লাশটি গলিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি থানায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত হয়েছে এবং অঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দিয়ে দাফন করানো হয়েছে।

শনিবার স্বজনরা লাশের দাবি নিয়ে আসার পর আবেদন সূত্রে লাশ কবর থেকে তুলে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।

ইকবাল মাহমুদের বোন সাদিয়া ইশরাত বলেন, আমার ভাইকে কারা-কেন খুন করেছে, আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা ভাই হত্যার বিচার চাই।

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হারবাং গ্রামের শাহ মোহাম্মদ এমরানের একমাত্র ছেলে ছিলেন ইকবাল মাহমুদ।
তার চার বোনের মধ্যে একজন চিকিৎসক। অন্যরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। তাদের বাবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা ছিলেন।

নিউজওয়ান২৪.কম/এসডি

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত