ঢাকা, ০৮ এপ্রিল, ২০২০
সর্বশেষ:
আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

৯ বছর পর জানা গেল!

ডিভোর্সড স্ত্রীকে বারবার দেখতে যাওয়ার মাশুল...

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২১, ৬ মার্চ ২০২০  

ছবি- পিবিআই

ছবি- পিবিআই

রাজধানীর দক্ষিণ রাজারবাগে সুজন নামে এক গ্রিল মিস্ত্রি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন নয় বছর আগে। থানা পুলিশ ও ডিবি হত্যা রহস্য উদঘাটন না করতে পেরে তিন আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্রও দেয়। এতদিনে জানা গেল সুজনের সাবেক স্ত্রী আছমা আক্তার ইভা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। দুই ভাই আরিফুল হক আরিফ ও রানা ওরফে বাবুসহ ইভাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এমনই দাবি করেছে। 

বৃহস্পতিবার পিবিআই জানিয়েছে, গত শনিবার ইভাকে কুমিল্লার লাকসাম থানার মধ্যইছাপুরে তার বর্তমান শ্বশুরবাড়ি থেকে এবং ভাই আরিফ ও বাবুকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক স্ত্রী ও দুই শ্যালক গ্রিল মিস্ত্রি সুজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। 

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার দক্ষিণ রাজারবাগের বাগপাড়ার শেষমাথা খাল থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার সবুজবাগ থানায় একটি মামলা করে। কিন্তু গত সাত বছরেও মামলাটির সুরাহা হয়নি। পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের (অভিযোগপত্র) বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন সুজনের বাবা। এরপর  পিবিআইকে এই হত্যা রহস্যের তদন্তভার হস্তান্তর করেন আদালত। 
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ বলেন, ২০০৮ সালে সুজনের সঙ্গে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে সুজনকে ডিভোর্স দেন ইভা। ডির্ভোসের পরও সুজন প্রায়ই ইভাকে দেখার জন্য তাদের এলাকায় ছুটে যেতেন। অন্যদিকে ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ের আগে থেকেই ইভাকে পছন্দ করতেন বড় ভাই আরিফের বন্ধু ফাইজুল। ইভাদের বাসায় যাতায়াত ছিল ফাইজুলের যা ইভার তখনকার স্বামী সুজন পছন্দ করতেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ফাইজুল ও ইভার বড় ভাই আরিফের সঙ্গে সুজনের তর্কাতর্কি-হাতাহাতিও হয়। পরবর্তীতে সুজনকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। বিষয়টি ইভাও জানতেন। 

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যার পর আরিফ, ফাইজুল এবং তাদের অপর দুই বন্ধু কুটি ও কালা বাবু ইভাদের বাসার সামনের মাঠে বসে সুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁদে। ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় আরিফ তাদের বাসার পাশের চায়ের দোকান থেকে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ নেয়। ফাইজুল ও আরিফ লাঠি নিয়ে খালপাড় বালুর মাঠের দিকে যেতে থাকে। এরই মধ্যে কুটি ও কালা বাবুও চলে আসে। সুজন সেদিন ইভাদের এলাকায় ছিল। রাত ৮টার দিকে সুজনকে খালপাড় বালুর মাঠে নিয়ে যায় কুটি। কথাবার্তার একপর্যায় সুজনকে পেছন থেকে আটকে ধরে ফাইজুল। কুটি পলিথিন ব্যাগটি সুজনের মাথার উপর থেকে গলায় পড়িয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর আরিফ ও কালা বাবু লাঠি নিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে সুজন মারা গেছে নিশ্চিত হয়ে তার লাশ খালে ফেলে দেয় তারা। ৪ দিন পর ১৮ মার্চ সকালে ইভাদের বাসার পেছনে খালে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরিফের লাশ লোকজনের নজরে আসে। ঘটনার পরদিন আরিফ ও তাঁর ছোট ভাই বাবু কেরানীগঞ্জ তাদের আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। তাদের বোন ইভা গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর চলে যান। ২/৩ দিন পর তাদের বাবা-মাও গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। পরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পালিয়ে থাকে।

পিবিআই সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার পর সবুজবাগ থানা পুলিশ আসামি কুটি, ফাইজুল ও কালা বাবুকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরে ডিবি প্রায় সাত বছর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। পলাতক আসামি ইভা, আরিফ ও বাবু গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে এর বিরুদ্ধে সুজনের বাবা আব্দুল মান্নান না-রাজি আবেদন করেন। পরে আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। সবশেষে তাদের তদন্তে সুজন হত্যা রহস্যের জট খুললো।
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

আরও পড়ুন
আইন আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত