ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

‘ডিএনএ টেস্টেই বোঝা যাবে ধর্ষণে এসআই খাইরুল জড়িত কিনা’

যশোর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯:২০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

যশোরে এক আসামির স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলা পিআইবিতে স্থানান্তর করা হযেছে। এছাড়া ভয়ভীতির কারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে অভিযুক্ত ধর্ষক এসআই খাইরুলের নাম প্রকাশ করতে পারেননি বলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দাবি করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। নিজ বাড়িতে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি আজ (শুক্রবার) এসআই খাইরুল আলমসহ সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। 

এদিকে, নির্যাতিত গৃহবধূর বাড়ি পরিদর্শন করেছে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি দল। ধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। অপরদিকে, পুলিশ হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে শুক্রবার মামলাটি পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর জেলার শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী শুক্রবার সকালে নিজ বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসআই খাইরুলকে আমি ভালোভাবেই চিনি। কয়েকদফা তিনি আমার বাড়িতে এসে টাকা নিয়ে গেছেন। তিনিও ধর্ষণ করেছেন।’ গৃহবধূ জানান, এসআই খাইরুলকে তার সামনাসামনি করার পর তাঁর চোখ রাঙানির কারণে ভয়ে তিনি ধর্ষক হিসেবে খাইরুলের নাম বলেননি। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ যখন খায়রুলকে আমার সামনে নিয়ে আসছিল এবং জিজ্ঞেস করছিল- ইনি ছিলেন কিনা। তখন আমি বিবেচনা করে দেখলাম, সে তো পুলিশের লোক। যখন সে বারেবারে আমার স্বামীরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাঁর সঙ্গে আমি পারবো না। তাছাড়া খায়রুল আমার দিকে এমনভাবে তাকাইছে, তার চোখের ভাষায় আমি বুঝতি পারছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনএ টেস্ট করলেই বোঝা যাবে ধর্ষণে এসআই খাইরুল জড়িত ছিলেন কিনা।’ তিনি বলেন, ‘এসআই খাইরুলের সঙ্গে যারা ছিল তারা এলাকার ভয়ঙ্কর লোক। তারা পেলে আমাদের আরও তি করার চেষ্টা করবে।’ তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, এসআই খাইরুল আলমকে নির্যাতিতের সামনে উপস্থিত করলে তিনি তাকে চিনতে পারেনি। যে কারণে এসআই খাইরুল আলমকে বাদ দিয়ে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান বলেন, ‘ওই গৃহবধূ সেদিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই এসআই খায়রুল সম্পর্কে তার বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাকে কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি।’ 

এদিকে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা নির্যাতিত ওই নারীর বাড়িতে যান। এসময় তারা ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন ও তার খোঁজখবর নেন এবং আইনগত সহায়তার আশ্বাস দেন। 

পরে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সারাদেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ নিরাপদ নয়। ধর্ষণকাজে পুলিশও বাদ যাচ্ছে না।’ তিনি যশোরের এ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন। এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ সংগঠনের যশোর জেলা নারী ও শিশু ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশ পাওয়ার পর আজ (শুক্রবার) মামলাটির নথিপত্র পিবিআইকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে পিবিআই যশোরের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আছি। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
নিউজওয়ান২৪.কম/আরকে

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত