ঢাকা, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

জেলেরূপী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ পুলিশের জালে 

নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ২০ অক্টোবর ২০১৯  

নাটোরের ভয়াবহ সিরিয়াল কিলার বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর চার সহযোগিও গ্রেপ্তার হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখের জবানিতে উদঘাটন হয় ধর্ষণশেষে হত্যাসহ ৮টি চাঞ্চল্যকর হত্যা অপরধের। প্রতিটি হত্যকাণ্ডের সঙ্গেই সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায় সে। আজ (রবিবার) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হাজির করে এসব তথ্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম হাফিজ আক্তার বিপিএম, বার। পরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।  
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি হাফিজ আক্তার জানান, গত ৮ অক্টোবর দিনগত রাতে নাটোর জেলার লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় এক নারীসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দুটিতে পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন, রাজশাহী থেকে ডাকা হয় সিআইডি’র ফরেনসিক টিমকেও। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তভার অর্পণ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আকরামুল হোসেন এবং বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে। তদন্ত সূত্রে পুলিশ গত ১৫ অক্টোবর সিংড়া থেকে রুবেলকে (২২) আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে ওইদিন সন্ধ্যায় লালপুর উপজেলার চংধুপইল এলাকা থেকে আটক করা হয় নাটোর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী লিটন খাঁকে। চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচা করতো লিটন। তার দেওয়অ তথ্যে ১৬ অক্টোবর নাটোর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদুলকে (৩৬) আটকের পর পুলিশ জানতে পারে যে, লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় চুরি ও খুনের ঘটনায় আসাদুলের সঙ্গে রুবেল ও বাবু শেখ জড়িত ছিল। এরপর ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ ওরফে আনোয়ার ওরফে আনার ওরফে কালু শেখকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। 
ডিআইজি এ কে এম হাফিজ আক্তার বিপিএম বার আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ নাটোরের লালপুরের চংধুপইল গ্রামের সাবিনা পারভীন ওরফে সাহেরা (৩২), বাগাতিপাড়ার জয়ন্তীপুরের রেহেনা বেগম (৬০), নলডাঙ্গার বাঁশিলা পূর্বপাড়ার আমেনা বেওয়া (৬০) কে হত্যা, ২০১৪ সালে নলডাঙ্গার খাজুরা মোল­াপাড়ার স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন লাবণীকে (১৩) ধর্ষণশেষে হত্যা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল গ্রামের রূপ বানুকে (৪৫) হত্যা, একই জেলার সখিপুর থানার তক্তারচালার সমলাকে (৬০) হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া তার দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর থানা এলাকায় ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উšে§াচন হয়। একইভাবে তার দেওয়া তথ্যে কালাম নামে অপর অপরাধীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিগলগলিয়া এলাকার বৃদ্ধা শেফালী খাতুন হত্যার রহস্য উšে§াচিত হয়।
ডিআইজি হাফিজ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সামগ্রিকভাবে মনে হয়েছে, মাছ মারার চেয়ে মানুষ মারা বাবু শেখের কাছে সহজ ছিল। নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার হরিশপুর গ্রামের মৃত জাহের আলীর ছেলে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ নিজ এলাকায় অত্যধিক চুরি করার কারণে এলাকাছাড়া হয়। পরে বাবু শেখ ও তাঁর সহযোগিরা মাছ শিকারির (জেলে) বেশ ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে রেকি করে বেড়াতো। পরে পরিকল্পনামাফিক সে সহযোগিদের নিয়ে সুবিধাজনক বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে হত্যা ও লুটপাট চালাতো। একটি ঘটনায় সে এক কিশেঅরীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর-রশিদ, ডিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত হাসান।

আরও পড়ুন
স্বদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত