ঢাকা, ০৮ জুলাই, ২০২০
সর্বশেষ:
সেহরি ও ইফতারের সময় সূচি : ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল [email protected] এবং ফেসবুক পেজে (Iedcr,COVID19 Control Room) যোগাযোগ করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

‘চোরের ঘরে মিললো পুলিশের পিস্তল’!

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:১৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডিএমপি নিউজ

ছবি: ডিএমপি নিউজ

১৭ ফেব্র“য়ারি। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা এক চোর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদি এলাকার আমিনুল ইসলামের বাসায় হানা দেয়। তালা ভেঙে আমিনুলের বাসা থেকে নগদ ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, স¡র্ণের তৈরি এক জোড়া বালা, দুইটি ব্রেসলেট, তিনটি চেইন, দুইটি হার, তিন জোড়া কানের দুল, আটটি হাতের আঙটি (মোট ১০ ভরি স¡র্ণালংকার) চুরি হয়।

এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা সূত্রে গত ১৮ ফেব্র“য়ারি পল্লবীর শহীদবাগ কালাপানি এলাকা থেকে সোহান নামের এক চোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। টাকা ও সোনার গহনা চোরকে ধরতে গিয়ে অভিযুক্ত ওই চোরের শয়ন কক্ষ থেকে অন্যান্য মালামালের সঙ্গে পুলিশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৭ দশমিক ৬ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি। আজ (রবিবার) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান। 

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে সোহান জানিয়েছে, সে টিভি চ্যানেলে নিয়মিত ক্রাইম পেট্রোল জাতীয় অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে সেই ধারায় চুরির পরিকল্পনা করতো। সে তার অপারেশনের জন্য দিনের বেলাকে সুবিধাজনক হিসেবে বেছে নেয়। চুরি শুরুর আগে প্রথমে সে টার্গেট করা বাসার দারোয়ানের গতিবিধি লক্ষ্য করতো এবং সুযোগমতো বাসাটিদে ঢুকে যেত। তালা মারা থাকলে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে বাসার তালা খুলে ফেলতো। তবে সিসি ক্যামেরা নেই এমন বাসা’ই চুরির জন্য টার্গেট করতো সে। সোহানের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, ৩০০ গ্রাম গাঁজা, তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা, তিনটি চাকু, একটি খুরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিল। 

গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘তাঁর (সোহান) কাছ থেকে যে বিদেশি পিস্তল পাওয়া গেছে সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। এ ছাড়া অন্য কারও এই অস্ত্র ব্যবহার করার সুযোগ নেই। তিনি এই অস্ত্র কোথায় পেয়েছেন তা জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে। সোহান জানিয়েছেন, এক লোকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিদেশি পিস্তলটি কিনেছেন। কেনার পর তিনি এখনও ওই পিস্তলটি ব্যবহার বা প্রদর্শন করেননি বলেও জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তাকে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অস্ত্রটি কারও খোয়া গিয়ে থাকলে কেউ যোগাযোগ করে কিনা তা জানা যাবে। আবার পিস্তলটি কেউ ভাড়া দিয়েছে কি না অথবা অন্য কেউ সরবরাহ করেছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছর শাহবাগ থানা থেকে একজন এএসআইয়ের বিদেশি পিস্তল খোয়া যায়। চোর সোহানের শয়ন কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি-ই সেই পিস্তল কি না জানতে চাইলে ডেপুটি কমিশনার সুদীপ বলেন, ‘এটি ডিএমপির কোনো অস্ত্র নয়। অস্ত্রাগারে সিরিয়াল মেলানো হয়েছে। এটি ঢাকার বাইরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও অস্ত্র হবে।’ গ্রেপ্তার সোহানের নামে রাজধানীর পল্লবী থানায় বেশ কয়েকটি চুরির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে, চুরির ঘটনার একদিনের মধ্যে মূল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে সম্মানিত নগরবাসীকে আহবান জানিয়ে সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'আপনারা বাসায় মূল্যবান জিনিস ভালো করে তালাবদ্ধ করে রাখবেন। প্রয়োজনে মূল্যবান জিনিসের নিরাপত্তায় ব্যাংকের ভল্ট ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে নিরাপত্তা ডিভাইস ও সিসি ক্যামেরা লাগাতে পারেন। আপনার ঘরের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি আপনাদেরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'
নিউজওয়ান২৪/আরকে 

আরও পড়ুন
অপরাধ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত