ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২০
সর্বশেষ:
জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১ জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯

কোনটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা নাকি পারমাণবিক বোমা?

নিউজ ওয়ান টুয়েন্টি ফোর ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ২০ অক্টোবর ২০১৭  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

যুদ্ধ ও বোমা আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। আন্তর্জাতিক মহলকে উত্তপ্ত করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া।

চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি। আর এতে বারবারই আসছে পারমাণবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমার কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র বলতে এ দু`টিকেই বোঝায়। পারমাণবিক বোমার শক্তি বিশ্ববিদিত। কিন্তু তার চেয়েও শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা।

যুক্তরাষ্ট্র যখন জাপানের উপর লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান ফেলেছিল, তখন কী হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। দু`টোই ছিল পারমাণবিক বোমা। নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় এই বোমা তৈরি করা হয়। বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটালে তার মধ্যস্থিত ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের পরমাণু ভাঙতে থাকে।

সেখান থেকেই এনার্জি তৈরি হয়। যার পরিণতি ইতিমধ্যেই হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দেখেছে বিশ্ব।

এ-বোম (অ্যাটোমিক বোম) প্রথম টেস্ট করা হয় ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে। মনহাট্টন প্রজেক্টের (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি একটি গবেষণা বিষয়ক প্রজেক্ট) এটি ছিল সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমার উপর প্রথম পরমাণু বোমাটি ফেলে। বোমার নাম ছিল লিটল বয়। বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত এর প্রভাব বয়ে চলেছে হিরোশিমা। এর ঠিক ৩ দিন পর নাগাসাকির উপর ফ্যাট ম্যান ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই বোম দু`টির বিস্ফোরণের ফলে যে এনার্জি উৎপন্ন হয়, তা প্রায় ২০ হাজার টিএনটি (ট্রাই নাইট্রো টলুইন)-র সমান।

দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ১৯৪৯ সালে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর ব্রিটেন হলো তৃতীয় দেশ যেটি পারমাণবিক বোমা টেস্ট করে। চীন, ফ্রান্স, ভারত, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানের কাছে আজ পারমাণবিক বোমা রয়েছে। ইসরায়েলের কাছে এই বোমা আছে কিনা তা জানাতে অস্বীকার করেছে তারা।

অন্যদিকে, পারমাণবিক বোমার থেকেও শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার আরেক নাম থার্মোনিউক্লিয়ার বোম। হাউড্রোজেনের আইসোটোপের নিউক্লিয় সংযোজন পদ্ধতিতে এই বোমা কাজ করে। এটি বিস্ফোরণের ফলে যে উত্তাপ তৈরি হয় তা সূর্যের মধ্যস্থিত শক্তির সমান।

হাইড্রোজেন বোম দুই প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরণ হয়। প্রথমে নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ হয়। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপ উতপন্ন হয়। তারপর সেটি নিউক্লিয়ার ফিউশনকে উদ্দীপ্ত করে। গোটা প্রক্রিয়ায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে।

১৯৫২ সালে মার্কিন সেনা প্রথম হাইড্রোজেন বোমা টেস্ট করে। পারমাণবিক বোমার চেয়ে এটি ৭০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। পরে তসার বোম্বা নামে একটি হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৫৭ মেগা টন শক্তি উৎপন্ন হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো যুদ্ধে হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়া একটি হাইড্রোজেন বোমা টেস্ট করে। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আরও একটি হাইড্রোজেন বোমা টেস্ট করা হয়। এর ফলে এলাকায় ধস নামে।

মোবাইল-পিসি-টেক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত