ঢাকা, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
সর্বশেষ:
জরুরি প্রয়োজনে কল করুন- ৯৯৯ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে হেল্পলাইন ১৬২৬৩ এ কল করলেই ডাক্তারের পরামর্শ

কুয়ালালামপুর পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবার তলব জাকির নায়েককে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২২ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের জন্য মাত্র দিনকয়েক ক্ষমা চেয়েছিলেন বর্তমানে মালয়েশিয়াবাসী ভারতীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ও ধর্ম প্রচারক ড. জাকির নায়েক।বৃহস্পতিবার তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মালয়েশিয়ার ফেডারেল পুলিশ।

দেশটির স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে চারটার দিকে কুয়ালামপুরের ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরে পুলিশি জিজ্ঞাসবাদের মুখোমুখি হন তিনি। তবে সেখানে তাকে কী কী জিজ্ঞেস করা হয়েছে এবং তার জবাব কী ছিল তা জানা যায়নি তাৎক্ষণিক। এ নিয়ে এক সপ্তাহে তৃতীয়বার পুলিশের জেরার মুখোমুখি হলেন তিনি।

মালয় দৈনিক মালয় মেইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাকির নায়েক নিজের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে যান পুলিশ সদর দফতরে। এছাড়া আরো এক ব্যক্তি তার সঙ্গে ছিলেন যার পরিচয় জানা যায়নি।

দেশটির তিজন মন্ত্রীসহ সংখ্যালঘু অন্যান্য কয়েকজনের মানহানির মামলায় জাকির নায়েককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। গত শুক্রবার বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। এরপর গত সোমবারও তাকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। 

আইনজীবী জানিয়েছেন, পাঁচ ব্যক্তির দায়ের করা মানহানির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার মক্কেল জাকির নায়েককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাদী পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী কুলাসেগারান, এমপি চার্লস সান্তিয়াগো এবং পেনাংয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী পি রমাস্বামীও রয়েছেন।

মালয়শীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত ১৪ আগস্ট জাকির নায়েককে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার বিরোধিতা করেন তিন মন্ত্রী। তারা তাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ার ওই তিন মন্ত্রী জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জাতি বিদ্বেষের অভিযোগ আনেন।

নিজ দেশ ভারতে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। কারণ, মানি লন্ডারিং ও উস্কানির অভিযোগে মামলা সূত্রে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। সে কারণে গত তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তিনি। নিজ দেশ ভারতে এই ইসলামি চিন্তাবিদ ও প্রচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে এক মন্তব্য করে সেখানে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

জাকির নায়েক সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় এক বক্তৃতায় বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের চেয়ে মালয়েশিয়ার সংখ্যালঘু হিন্দুরা ১০০ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করে। প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার ৬০ শতাংশ মুসলিম বাদে বাকি ৪০ শতাংশ মানুষের অধিকাংশই চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত চীনা বংশোদ্ভূতদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে জাকিরের পক্ষে জানানো হয়েছে, তাঁকে ভারতে ফিরে যেত বলেছিলেন একজন চীনা বংশোদ্ভূত মালয়শিয়ান নাগরিক, তার জবাবে তিনি এমন কথা বলেন। 

তার বিরুদ্ধে আনা বর্ণবাদী অভিযোগের বিরুদ্ধে জাকির নায়েক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি মোটেও কোনো বর্ণবাদী নই। সমালোচকরা আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে নিয়েছেন এবং সকল বক্তব্যে তারা মনগড়া কথা যোগ করেছেন।’এক বিবৃতিতে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদিও আমি ইতোমধ্যে আমার বক্তব্য পরিষ্কার করেছি। তবুও আমার কথায় আপনাদের যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে এর জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। এখানে বেশকিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাই না।’

ড. জাকির বলেন বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে আঘাত করাটা কখনোই আমার উদ্দেশ্য নয়। এটা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এই ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ ভারতীয় এই ইসলামি চিন্তাবিদ আরো বলেন, ‘গোটা বিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে দেয়াই আমার মূল উদ্দেশ্য। আমি দুঃখ প্রকাশ করে বলছি, নিন্দুকেরা আমার এই কাজে সব সময়ই বাধা দিচ্ছে।’

নিউজওয়ান২৪.কম/এসএল

আরও পড়ুন
বিশ্ব সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত